আন্তর্জাতিক
মার্কিন-ইরান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্ক সফরে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন। তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন এবং ওয়াশিংটনের বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আঙ্কারার কাছে ইরানের নিরাপত্তা, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র হাকান ফিদানের বরাত দিয়ে জানায়, বৈঠকে তুরস্ক ইরানের ওপর যেকোনো সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে তার বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করবে এবং তেহরানে হামলা হলে তা ‘বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি’ তৈরি করবে।
গত বুধবার কাতারভিত্তিক আলজাজিরাকে ফিদান বলেছেন, “আবার যুদ্ধ শুরু করা ভুল হবে। আমেরিকার বন্ধুদের প্রতি পরামর্শ, ইরানের ওপর একের এক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাইও সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এক পোস্টে লিখেছেন, ইরান তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমাগত জোরদার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং সাধারণ স্বার্থের নীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানও অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপের সময়, এরদোগান একটি ত্রিপক্ষীয় টেলিকনফারেন্স আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা আংশিকভাবে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং নতুন শরণার্থী প্রবাহের ঝুঁকির কারণে। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৫৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে এবং দেশটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী জনসংখ্যার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখের বেশি নিবন্ধিত সিরিয়ান শরণার্থী রয়েছে। অনিবন্ধিত অভিবাসীর সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
তুর্কি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চলে নতুন সংঘাত অভিবাসনের চাপ বাড়াতে পারে এবং দেশের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।


.jpg)






