আন্তর্জাতিক
ইংল্যান্ডে ৬ বছর বয়স থেকে কন্যাকে ধর্ষণ: তিন প্রজন্মের পারিবারিক নির্যাতনে ১০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
ইংল্যান্ডের হোভ ক্রাউন কোর্টে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের ছয় সদস্যকে নিজ পরিবারের দুই কন্যাশিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে সংঘটিত যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। পৃথক সাজা মিলিয়ে তাদের মোট কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১০০ বছরেরও বেশি।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, ভুক্তভোগী বড় মেয়েটির বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তার বাবা (৪৩), দাদা (৭০) এবং দুই ভাই (২৩ ও ২০) দীর্ঘ সময় ধরে তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার করেন। এ ছাড়া মা (৪৩) নির্যাতনের বিষয়টি জানার পরও কোনো প্রতিরোধ না করে উল্টো মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করেন এবং নির্যাতন আড়াল করতে সহযোগিতা করেন।
বিচার চলাকালে জানা যায়, শিশুটিকে নিয়মিত মারধর করা হতো, শাস্তি হিসেবে খাবার থেকে বঞ্চিত করা হতো এবং কখনো কাপবোর্ডে আটকে রাখা হতো। শারীরিক আঘাত ও পোড়ানোর চিহ্ন ঢাকতে তাকে মেকআপ ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরী বয়সে পৌঁছানোর পর স্কুলে শিক্ষকদের কাছে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর সাসেক্স পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে জুরি মোট ৪২টি অভিযোগের মধ্যে ৩৯টিতে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত ভুক্তভোগীদের পরিচয় সুরক্ষার স্বার্থে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
সাজার মধ্যে রয়েছে- বাবার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর যৌন অপরাধ ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, মায়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, মিথ্যা বন্দিত্ব ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার দায়ে দণ্ড, দাদা ও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে কারাদণ্ড, মামার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাজা।
রায়ের পর সাসেক্স পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও হৃদয়বিদারক মামলা। ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার কারণেই এই অপরাধের বিচার সম্ভব হয়েছে। পুলিশ সব সময় নির্যাতনের শিকারদের অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়।
এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।


.jpg)





