আন্তর্জাতিক


ইংল্যান্ডে ৬ বছর বয়স থেকে কন্যাকে ধর্ষণ: তিন প্রজন্মের পারিবারিক নির্যাতনে ১০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার

ইংল্যান্ডে ৬ বছর বয়স থেকে কন্যাকে ধর্ষণ: তিন প্রজন্মের পারিবারিক নির্যাতনে ১০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি


ইংল্যান্ডের হোভ ক্রাউন কোর্টে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের ছয় সদস্যকে নিজ পরিবারের দুই কন্যাশিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে সংঘটিত যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। পৃথক সাজা মিলিয়ে তাদের মোট কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১০০ বছরেরও বেশি।

 

আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, ভুক্তভোগী বড় মেয়েটির বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তার বাবা (৪৩), দাদা (৭০) এবং দুই ভাই (২৩ ও ২০) দীর্ঘ সময় ধরে তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার করেন। এ ছাড়া মা (৪৩) নির্যাতনের বিষয়টি জানার পরও কোনো প্রতিরোধ না করে উল্টো মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করেন এবং নির্যাতন আড়াল করতে সহযোগিতা করেন।

 

বিচার চলাকালে জানা যায়, শিশুটিকে নিয়মিত মারধর করা হতো, শাস্তি হিসেবে খাবার থেকে বঞ্চিত করা হতো এবং কখনো কাপবোর্ডে আটকে রাখা হতো। শারীরিক আঘাত ও পোড়ানোর চিহ্ন ঢাকতে তাকে মেকআপ ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়।

 

ভুক্তভোগী কিশোরী বয়সে পৌঁছানোর পর স্কুলে শিক্ষকদের কাছে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর সাসেক্স পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

দীর্ঘ শুনানি শেষে জুরি মোট ৪২টি অভিযোগের মধ্যে ৩৯টিতে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত ভুক্তভোগীদের পরিচয় সুরক্ষার স্বার্থে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

 

সাজার মধ্যে রয়েছে- বাবার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর যৌন অপরাধ ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, মায়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, মিথ্যা বন্দিত্ব ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার দায়ে দণ্ড, দাদা ও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে কারাদণ্ড, মামার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাজা। 

 

রায়ের পর সাসেক্স পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও হৃদয়বিদারক মামলা। ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার কারণেই এই অপরাধের বিচার সম্ভব হয়েছে। পুলিশ সব সময় নির্যাতনের শিকারদের অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়।

 

এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।


সম্পর্কিত

ধর্ষণকারাদণ্ড

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ