আইন আদালত


সাগর-রুনি হত্যা; তদন্ত চেয়ে রিট শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৪ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার

সাগর-রুনি হত্যা; তদন্ত চেয়ে রিট শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত


সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত ও আসামি শনাক্তে প্রতিবেদন চেয়ে করা রিটে জারি করা রুল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৪ এপ্রিল) রিট আবেদনটি কার্যতালিকায় আসার পর রুলটি শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।

 

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি জানান, সাগর-রুনি মামলার তদন্ত সঠিকভাবে করা এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য ২০১২ সালে তারা একটি রিট দায়ের করেছিলো। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছিলেন। রুলে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন।

 

তিনি আরোও জানান, এরপর পৃথক একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত র্যাবের কাছে চলে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই ১০ বছরে এ মামলার চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখনও তদন্ত পর্যায়ে রয়ে গেছে। ১০ বছর আগে জারি করা রুলের শুনানির জন্য আমরা কোর্টে আবেদন করি।

 

এই আইনজীবী আরোও জানান, ১০ বছর আগে জারি করা রুলের শুনানির জন্য আমরা আজ আদালতে আবেদন করেছিলাম। আদালত রুল শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আগামীকাল মামলাটি তালিকায় আসলে শুনানি হবে।

 

২০১২ সালে হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতার নিয়ে জনস্বার্থে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সেই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

 

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার এক কর্মকর্তা। ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)। সেই থেকে প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।


সর্বশেষে গত ২৭ মার্চ এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি র্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা। তাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী আগামী ২৬ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। এনিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৮৭ বার পেছালো। মলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আটজন। অপর আসামিরা হলেন- বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল, তানভীর ও আবু সাঈদ।


জনপ্রিয়


আইন আদালত থেকে আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে নির্বাচনী সহিংসতায় এক দশকে ১১ খুন, একটিরও বিচার হয়নি

চট্টগ্রামে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত এক দশকে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার একটিরও বিচার এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। এতে হতাশ নিহতদের পরিবার ও বিচারপ্রার্থীরা।

সাগর–রুনি হত্যার ১৪ বছর: অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কাজই করেনি

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। আজ সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পূর্ণ হলো। দীর্ঘ এই সময়ে সরকার বদলেছে, তদন্ত সংস্থা বদলেছে, কিন্তু মূল প্রশ্নটি রয়ে গেছে সাগর-রুনিকে

হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–২–এর বিচারক

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া এবং মোট সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।