জাতীয়


মহাসাগরে বিমান তলিয়ে গেলেও বেঁচে ছিলেন দুই সাহসী পাইলট


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার

মহাসাগরে বিমান তলিয়ে গেলেও বেঁচে ছিলেন দুই সাহসী পাইলট

৫০০০ ফুট উচ্চতা থেকে সোজা মহাসাগরে বিমান! তবুও প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন পাইলটদের দুজনেই! অতল সমূদ্রে তলিয়ে যাবার পরও ঘটেছিলো এই বিস্ময়কর ঘটনা! 

এ্যাভিয়েশন জগতে এমনই এক কান্ড ঘটেছিল ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে উড়ে চলছিলো বিমানটি।  

বিমান চালাচ্ছিলেন নারী বৈমানিক সিডনি উয়েমোতো এবং তার সঙ্গে কো পাইলট হিসেবে ছিলেন ডেভ ম্যাকমাহন। 

সেদিনই প্রথম তারা একসঙ্গে বিমানটি চালাচ্ছিলেন। তবে বিমানে ছিল না কোনো যাত্রী। এমনকি তারা দুজন ছাড়া আর কোনো ক্রুও ছিল না।    

মূলত বিমান চূড়ান্তভাবে উড়ানোর পূর্বে তারা একটি শর্ট ট্রিপ দিচ্ছিলেন। যাত্রাপথ ছিল ওয়াহু থেকে কনা, হাওয়াই দ্বীপে। 

শুরুতে বিমানে কোনো ত্রুটি থাকলেও উড়ার কিছুক্ষণ পরই একটা বিকট শব্দ শুনতে পেলেন দুজনেই। 

এমন শব্দ শোনার পরপরই কো-পাইলট ম্যাকমাহন বিমানটিকে ৫ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের এক হাজার ফুট ওপরে নামিয়ে আনলেন। 

তাতে মনে হলো, ইঞ্জিনটি এবার যেন একটু ভালোই চলছে। পরক্ষণেই বিমানের ডান এবং বাম দিকের দুটো ইঞ্জিনই অচল হয়ে যায়। 

বিমানটি তখন দ্রুতই নিচের দিকে নামছে। দুই পাইলট ফুয়েল পাম্প চেক করলেন, হাতল ধরে জোরে টান দিলেন। এভাবে করলে অনেক সময় বন্ধ ইঞ্জিন চালু হয়ে যায়।

তবে কিছুতেই কোনো কাজ হলো না। এরকম জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে তারা ভেবে পাচ্ছিল না।  

উড়োজাহাজের ভেতরটা তখন গরম বাতাসে ভরে যায়। তাই গরম বাতাস থেকে বাঁচতে ককপিটের দরজা খুলে দিলেন। সেসময় উড়োজাহাজটি সমুদ্রের পানিতে ডুবে যাচ্ছিল। 

উড়োজাহাজটি যখন সমুদ্রের ৩০০ ফুটের মধ্যে চলে এসেছে, তখন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে শেষ বার্তা দিলেন উয়েমোতো, ‘আমরা ২৫ মাইল উত্তর-পশ্চিম দিকে আছি। আমরা নিচের দিকে নেমে যাচ্ছি।’  

উড়োজাহাজটি যখন তীব্র গতিতে সমুদ্রের দিকে নামছিল, উয়েমোতো তখন জোর করে ভাবতে লাগলেন, ওখানে পানির ওপর একটি রানওয়ে আছে। 

সমুদ্রের প্রবল বাতাসে কান বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছিল তাদের। প্রচণ্ড গতিতে সান ফ্রান্সিসকোর উপকূল থেকে প্রায় ১০ মাইল দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে ভেঙে পড়ে বিমানটি।

একটু পরেই চোখ খুললেন তারা। দেখলেন অলৌকিক ভাবে দুজনেই বেঁচে আছেন। উড়োজাহাজের খোলা দরজা দিয়ে হু হু করে পানি ঢুকছে। 

ম্যাকমাহন ভাবলেন, ‘বেঁচে যখন আছি তখন এখান থেকে বেরোতে হবে এবং একটুও দেরি করা চলবে না।’ 

ডুবন্ত বিমানের ভেতরে তখন হাঁটু পানি। যে কোনো মুহূর্তে সেটি সমুদ্রের পানিতে ডুবে যেতে পারে। তারা দ্রুত সিটবেল্ট খুলে ফেললেন এবং লাইফ জ্যাকেট পড়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন।

বেরিয়ে এসেই উড়োজাহাজের পাখা ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করলেন। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমান সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে গেল। 

সমুদ্র তীরে জন্ম নেয়া ম্যাকমাহন ভাবলেন আরে, আমি তো এই ওয়াহু এলাকারই ছেলে। সমুদ্রতীরে জন্মেছি, পানিতে খেলা করেছি, সার্ফিং করেছি, সাঁতার কেটেছি, নৌকা চালিয়েছি। 

এখন আমরা দু’জন একটু কষ্ট করে ভেসে থাকতে পারলেই হবে। কোস্টগার্ড তো জানেই কোথায় আছি আমরা। ওরা তো আসবেই। 

উয়েমোতোর ভাবনাটা ছিল ম্যাকমাহনের ঠিক উল্টো। ভীষণ ভয় পেয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনি। 

তাকে সাহস দেয়ার চেষ্টা করলেন ম্যাকমাহন। ঢেউ ভাঙতে ভাঙতে টুকটাক কথা বলতে থাকলেন তিনি। 

কয়েক ঘণ্টা পরে আকাশে দেখা গেল মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমান পুরো এলাকায় চক্কর দিচ্ছে। বিমানটি দু’জনের ঠিক মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল। 

ম্যাকমাহন তার লাইফ জ্যাকেট দুলিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইল। কিন্তু উদ্ধারকর্মীদের কেউ তাদের দেখলো না। 

পরের কয়েক ঘণ্টাও একের পর এক উড়োজাহাজ তাদের খোঁজে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল। তারাও প্রাণপণ চেষ্টা করল উদ্ধারকারীদের চোখে পড়ার। তবে এবারও কেউ তাদের দেখতে পেল না। 

এই সময়ে সাতরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন তারা। এরমধ্যেই জেলিফিশের কামড় খেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন উয়েমোতো। 

এই সময়ে তার মাথাটা কোন রকমে পানির উপর ভাসিয়ে রেখেছেন ম্যাকমাহন। এর কিছুক্ষণ পরেই আবার তিনি জ্ঞান ফিরে পান।

পিছু নিয়েছিল ছোট ব্ল্যাক ফিশের ঝাঁক। এমনকি পানির উপরিভাগ থেকে তিন মিটারের মতো নিচে একটি হাঙরও দেখেছিলেন তারা।

সমুদ্রে ভাসতে ভাসতেই প্রায় ২০ ঘণ্টা কেটেছে। শেষমেষ হাল ছেড়ে দিয়েই তারা পানিতে ভাসতে থাকলেন। 

সেই মুহূর্তে তারা আবারো একটি হেলিকপ্টারের আওয়াজ শুনতে পেলেন। দুজনই প্রাণপণে হাত নাড়াতে লাগলেন।

এবার কাজ হয়েছে, হেলিকপ্টারটি তাদের মাথার ওপর এসে থামল। দশ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় আরেকটি হেলিকপ্টার চলে আসল। 

একটি ধাতব উদ্ধারকারী ঝুড়ি নিয়ে বেশ নিচুতে নেমে এলেন একজন উদ্ধারকারী। তারপর প্রথমে উয়েমোতো এবং পরে ম্যাকমাহনকে তুলে নেয়া হলো। 

এভাবেই সেদিন নির্ঘাত মৃত্যুর কবল থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন দুই পাইলট! 



জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণসভা শনিবার, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

ইরান সফরে গালিবাফের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠক, খামেনি হত্যার নিন্দা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে জাতীয় শোকের এ সময়ে ইরান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতির বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় নাগরিক হয়েও প্রধান শিক্ষকের পদে দীপক চন্দ্র, রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিকত্ব, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করা হলেও এখনো তিনি দায়িত্বে বহাল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।