জাতীয়


গুলশানে এত বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন কারা?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৯ মার্চ ২০২৩, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার

গুলশানে এত বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন কারা?
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান। বলা চলে আধুনিক ঢাকার প্রাণই হচ্ছে গুলশান। এই গুলশানেই নামি দামি সব ব্র্যান্ড এর কর্পোরেট অফিস গুলো অবস্থিত। ব্যস্ততম এই এলাকাকে অফিস পাড়া বলা হলেও, দেশের অন্যতম নামিদামি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি, এ্যাপার্টম্যান্ট, ফ্ল্যাটগুলোর অবস্থান এই গুলশানেই। 

এতো দামি অভিজাত এলাকায় আসলে থাকেন কারা? কারাই বা কেনেন বিলাসবহুল প্রাসাদ গুলো? 

আধুনিক ঢাকার প্রাণ এই গুলশানে থাকেন সমাজের বিত্তশালী শ্রেণির মানুষেরা। বিত্তবানদের কাছে গুলশান এলাকাটি আবাসের জন্য বরাবরই প্রথম পছন্দ। সেই সাথে লোক দেখাতে হলেও নিজেকে সম্পদশালী হিসেবে প্রমাণ করতে অনেকেই গুলশানে অন্তত একটি ফ্ল্যাট কিনেন।

গুলশানে বাড়ি কেনার তালিকায় ক্রেতা হিসেবে প্রথমেই আছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দেশের স্বনামধন্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকের প্রায় সবারই গুলশানে একটি করে এ্যাপার্টম্যান্ট রয়েছে। 

এছাড়াও সরকারি আমলা থেকে শুরু করে  করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরাও থাকেন অভিজাত এই এলাকায়। 

তাছাড়াও অবৈধ পথে টাকা আয় করে অল্প দিনেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া অপরাধীদের কেউ কেউ এই এলাকায় আবাস গড়ে থাকেন। 

গুলশান আবাসিক সোসাইটিতে আধুনিকতার সব সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকায় অনেকেই গুলশান এলাকা ছাড়তে চান না। আর যাদের একবার এই এলাকায় থাকার অভ্যাস হয়ে যায়, তাঁরা ঢাকার অন্য এলাকায় নিজেদের মানিয়েও নিতে পারেন না। 

ছোটবেলা থেকে যাঁরা গুলশানে বড় হয়েছেন, তাঁরা অন্য এলাকায় যেতে চান না। এমনকি তাঁদের ছেলেমেয়েরাও বসবাসের জন্য গুলশানের বাইরে যেতে চান না। ফলে দিন দিন গুলশানে অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা বেড়েই চলেছে।

দেশে বিত্তবানদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ার ফলে, আবাসিক ফ্ল্যাট গুলোর দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়া স্বত্বেও গুলশান এলাকায় বিত্তবানদের ফ্ল্যাট কেনার হিরিকও দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে।  

বাংলাদেশের আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব এর হিসেব বলছে, গত ১৩ বছরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০’র বেশি অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে গুলশানেই নির্মিত হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৬টি অ্যাপার্টমেন্ট। যা ঢাকা শহরে নির্মিত অ্যাপার্টম্যান্ট গুলোর ১৭ শতাংশ।

গুলশানের পর সবচেয়ে বেশি ফ্ল্যাট নির্মিত হচ্ছে ধানমন্ডিতে। ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ঐ এলাকায় ১৭ হাজার ৪৯৪টি অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি হয়েছে। 
আগামী বছর পর্যন্ত আরও ১৩ হাজার ৭০০ অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণাধীন রয়েছে। তার মধ্যে গুলশানেই নির্মাণ হচ্ছে ৩ হাজার ৮৯টি অ্যাপার্টমেন্ট। এর বাইরে ধানমন্ডিতে ১ হাজার ৮৮০টি, মিরপুরে ১ হাজার ২০৯টি, রমনায় ১ হাজার ৭৫টি, উত্তর বাড্ডায় ৯৪০টি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণাধীন রয়েছে।

এসব এলাকায় উচ্চ ও মাঝারি অভিজাত ফ্ল্যাটের দাম ১ কোটি টাকার ওপরে। গত বছর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গফুটের গড় দাম ছিল ১৪৩ মার্কিন ডলার। তবে গুলশানে এ গড় দাম ১৬৬ ডলার। তার মানে দেশীয় মুদ্রায় প্রতি বর্গফুটের গড় দাম ১৭ হাজার ৪৩০ টাকা। এই দাম অনুযায়ী, গুলশানে ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের দাম দাঁড়ায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার কাছাকাছি। কিছু কিছু ফ্ল্যাটের দাম প্রায় পাঁচ কোটি টাকারও উপরে। 

এতো দাম থাকলেও ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আমলা, রাজনীতিবিদ, কর্পোরেট অফিসের নির্বাহী কর্মকর্তারা দেদারসে গুলশান এলাকায় ফ্ল্যাট কিনে থিতু হচ্ছেন। 

আর অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা বেশি থাকায় শান্তা, সাউথ ব্রিজ, বিটিআই, র‌্যাংগস, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক, কনকর্ড, ইনস্টারসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো গুলশানে  একের পর এক আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করেই চলেছে।






সম্পর্কিত

রাজধানীর খবর

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। রোববার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

পানি সম্পদ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন ও শপথ সম্পন্ন হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এ বিষয়ে আলাদা কোনো শপথের প্রয়োজন নেই; এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।

মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোত

ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে সেখানে।

তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস তারেক রহমানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান।