জাতীয়


বেশি স্যাংশন দিলে আমরাও স্যাংশন দিতে পারি: প্রধানমন্ত্রী


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

বেশি স্যাংশন দিলে আমরাও স্যাংশন দিতে পারি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি সবাইকে বলে দিয়েছি, সংশ্যান নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই।  আপনাদেরও (প্রবাসী) বলবো স্যাংশন-ট্যাংশন নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। দেশ আমাদের, আমাদের দেশটাকে আমরাই গড়ে তুলবো। কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না। বেশি স্যাংশন দিলে আমরাও স্যাংশন দিতে পারি। আমরাও দিয়ে দিবো।

সোমবার (২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকার ম্যাথডিস্ট চার্চ হলে নাগরিক সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন তিনি। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।

সরকার প্রধান বলেন, কথায় কথায় স্যাংশন, কে কাকে স্যাংশন দেয়, সেটা আমার প্রশ্ন। আমি স্পষ্ট করে একটা কথাই বলছি, যাদের দিয়ে সন্ত্রাস দমন করলাম, জঙ্গিবাদ দমন করলাম তাদের ওপরে স্যাংশন, এটা কোন ধরনের কথা? তখন কি জঙ্গি আর সন্ত্রাসী থাকবে বাংলাদেশে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ এর নির্বাচনের আগে আমার কাছে প্রস্তাব এসেছিল, গ্যাস বিক্রি করার। গ্যাস বিক্রি করলে ক্ষমতায় থাকতে পারবো। আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা, দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসার লোভ আমার নেই। চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে আমাদেরকে ক্ষমতায় আসতে দিলো না। আর ক্ষমতায় আসলো কে? খালেদা জিয়া, তার সাথে জামায়াতে ইসলামী।

তিনি আরও বলেন, ’৯১ সালের নির্বাচনে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইনি। তখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। তিনি আমাকে ডেকেছিলেন। বলেছিলেন, আপনি তো সরকার গঠন করতে পারেন। আপনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। কীভাবে? আমি যদি জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সমর্থন নিই, তাহলে সরকার গঠন করতে পারবো। আমি বলেছিলাম, দুঃখিত! আমরা যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইনি, এভাবে সরকার গঠন করতে পারি না। আপনি অন্য কাউকে ডাকেন। কারণ, এখানে আমার নীতির প্রশ্ন আছে। ক্ষমতা নিই নাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির যে স্বভাবজাত চরিত্র, ক্ষমতায় এসেই মামলা, হামলা, অত্যাচার, জেল, জুলুম, নির্যাতন, লুট, দুর্নীতি শুরু করে। তারপর ক্ষমতায় থাকার জন্য ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটা নির্বাচন করলো। পুরো নির্বাচনে কোনো দলই অংশগ্রহণ করেনি। ২ শতাংশ ভোটও পড়েছে কি না… ঘোষণা দিয়ে দিলো খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। আর সে নির্বাচনে জনগণের ভোট চুরি করে সংসদে জাতির পিতার হত্যাকারী খুনি রশিদ ও খুনি হুদাকে বিরোধী দলের চেয়ারে বসালো খালেদা জিয়া। তাদের যে মানসিকতা, হত্যার সঙ্গে জড়িত, তা কতভাবে প্রমাণিত হয়।

বাংলাদেশের মানুষ ভোটচোরদের ক্ষমতায় থাকতে দেয় না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভোট চুরির অপরাধে দেড় মাসের মাথায় ’৯৬ সালের ৩০ মার্চ খালেদা জিয়াকে হটিয়ে দেয় জনগণ। এরপর নির্বাচনে আমরা জয়ী হয়ে সরকার গঠন করি। তখন মানুষ উপলব্ধি করে সরকার জনগণের সেবক হয়, জনগণের জন্য কাজ করে। কিন্তু ২০০১-এ? আবার চক্রান্তের শিকার হই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখন দেখি, রোজ আন্দোলন করবে, সরকার উৎখাত করবে। আলটিমেটাম পেলাম, ১০ ডিসেম্বর… ডাকঢোল পিটালো। কেউ ঘাবড়ে গেলো, কেউ ভয় পেলো; আমি বললাম ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ১০ ডিসেম্বর আসলো, গ্যাস বেলুনের গ্যাস চুপসে গেলো। এখনও প্রতিদিন ধমক শুনি। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি, আমাদেরই করা ডিজিটাল বাংলাদেশ দিয়ে আমাদেরকেই উৎখাতের চক্রান্ত।

চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে খালেদা জিয়ার প্রতি কেন সহানুভূতি দেখাতে হবে, এ সময় এমন প্রশ্নও তুলেন তিনি। জানান, এখন তার আর কিছু করার নেই। আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে তিনি যেতে পারবেন না।


সম্পর্কিত

বিএনপিআওয়ামী লীগ

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। রোববার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

পানি সম্পদ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন ও শপথ সম্পন্ন হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এ বিষয়ে আলাদা কোনো শপথের প্রয়োজন নেই; এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।

মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোত

ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে সেখানে।

তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস তারেক রহমানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান।