জাতীয়
ভোট এলেই বাড়ত গুম: আওয়ামী লীগ আমলে ১৫ বছরে ১,৫৬৪টি গুম

ছবি: দূরবিন নিউজ
ভোট সামনে এলেই দেশে গুমের ঘটনা বাড়ত এমন চিত্র উঠে এসেছে গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির নেতা কর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে গুম চালানো হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে দেশে গুমের ঘটনা ছিল ৬১টি। এর পরের বছর ২০১৩ সালে সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়ায় ১২৮টিতে। আবার ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও গুমের ঘটনা বেড়ে যায়, যা পরবর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিশন চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীদের গণহারে আটক করা হতো এবং বেছে বেছে গুমের শিকার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়,
আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বর্জন করে। আর ২০১৮ সালের নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পায়, যেখানে ভোটের আগেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ ওঠে। এই তিনটি নির্বাচনের আগেই গুমের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
ছবি: দূরবিন নিউজ
কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গুমের ঘটনা বাড়া কমার সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বড় সমাবেশ, বিক্ষোভ এবং নির্বাচনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৩ সালে গুমের ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের যোগসূত্র পাওয়া যায়। একই প্রবণতা দেখা যায় ২০১৮ সালের নির্বাচনকেও ঘিরে। ওই সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীরাই বেশি গুমের শিকার হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মোট ৯৪৮ জন গুমের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫৭ জন এখনো নিখোঁজ। গুমের শিকারদের মধ্যে জামায়াত ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের সংখ্যা বেশি হলেও, গুমের পর ফিরে না আসা নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় অংশ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের। নিখোঁজদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও যুবদলের নেতা কর্মী এবং ২২ শতাংশ জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মী।
কমিশন বলছে, গুম বোঝার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্পষ্ট হয়, গুম কোনো সাধারণ আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত ঘটনা ছিল না; বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিরোধী মত দমনের কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
ছবি: দূরবিন নিউজ
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৬৪টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে কমিশন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুম হয়েছে ২০১৬ সালে ২১৫টি। ২০১৭ সালে ১৯৪টি, ২০১৮ সালে ১৯২টি এবং ২০১৫ সালে ১৪১টি গুমের ঘটনা ঘটে। তুলনামূলকভাবে ২০২০ ও ২০২১ সালে গুমের সংখ্যা কমলেও ২০২২ সালে তা আবার বেড়ে দাঁড়ায় ১১০টিতে। ২০২৪ সালে গুমের সংখ্যা ছিল ৪৭।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেতৃত্ব পরিবর্তনের সঙ্গে গুমের সংখ্যা ওঠানামা করেছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) পদ থেকে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে সরানোর পর গুমের সংখ্যা কিছুটা কমে আসে। তবে কমিশনের মতে, এতে গুম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর গুমের ঘটনায় সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমন ও অপরাধ প্রতিরোধমূলক আটক আইনকে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিবর্তে গুমকে কৌশল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই চর্চা দীর্ঘ সময় ধরে চলায় গুম আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে একটি নিয়মিত দমনমূলক পদ্ধতিতে পরিণত হয়।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গড়ে তুলতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষির যান্ত্রিকীকরণে একগুচ্ছ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

ধানের শীষ হাতে শুভেচ্ছা, নিরাপত্তাকর্মী আব্দুস সালামের পাশে প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর রমনা এলাকায় একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তাকর্মী আব্দুস সালামের হাতে উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিদিন দায়িত্ব পালনের সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণসভা শনিবার, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

ইরান সফরে গালিবাফের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠক, খামেনি হত্যার নিন্দা
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে জাতীয় শোকের এ সময়ে ইরান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতির বার্তা দিয়েছেন তিনি।







