রাজনীতি
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে নতুন নেতৃত্ব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনের ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
গত ১ মার্চ ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। ২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় সম্ভাব্য নেতৃত্বে আসতে পারেন এমন নেতাদের তৎপরতাও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দলীয় অঙ্গনজুড়ে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন রাজপথে ভূমিকা রাখা নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী নেতারা বলেন, অতীতে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও সন্তুষ্ট হবেন। সংগঠন ও সাংগঠনিক অভিভাবক চাইলে যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব।
কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, এজাজুল কবির রুয়েল এবং এইচ এম আবু জাফর।
২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক আমান-উল্লাহ-আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্যরা
২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ।
২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল এবং কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি সোহাগ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরাইয়া এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন বাবর।
পদপ্রত্যাশী নেতারা বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তারা আরও বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান এবং তিনি যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটিই সবাই মেনে নেবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলে আলোচনায় যেসব নাম
দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য তালিকায় ২০১১-১২ থেকে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে।
২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন শাওন ও শামিম আক্তার শুভ।
২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে আলোচনায় রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, সহসভাপতি সৈকত মোর্শেদ এবং মাহবুব আলম শাহিন।
২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে সম্ভাব্য নেতৃত্বে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন, ইমাম আল নাসের মিশুক এবং জসিম খান।
২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএম কাওসার, সাইফ খান, মো. আক্তারুজ্জামান বাপ্পী, আলমগীর হোসেন আলম, তানভীর সাকিব আজাদী এবং আকিব জাভেদ রাফি।
২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী এবং মো. মিনহাজ হক নয়ন। এছাড়া আলোচনায় আছেন ডাকসুর সাবেক জিএস ও এজিএস এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করা তানভীর বারী হামিম, তানভীর আল হাদী মায়েদ ও মেহেদী হাসান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ক্যাম্পাসে জোর আলোচনা চলছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ এবং শাহরিয়ার হোসেন।
এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মাহামুদুল হাসান খান, রবিউল আওয়াল, রফিকুল ইসলাম রফিক, নাহিয়ান বিন হক অনিক এবং রাশেদুল ইসলাম রাহাতের নামও শোনা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্র বলছে, শাহরিয়ার হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ এবং মোস্তাফিজুর রহমান রুমি নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটির আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির হিরন, জরজীস মুহাম্মদ ইব্রাহিম খান, মাজহারুল আমিন কামাল, মিজানুর রহমান, হোসাইন আল রাশেদ বাদল, মো. জোবায়ের হোসাইন, চঞ্চল কুমার দাস, আলাউদ্দিন দেওয়ান, রাজু আহম্মেদ এবং হাসান শাহরিয়ার রামিম।
২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ রাজন মিয়া, এম আর মুরাদ, জাকিরুল ইসলাম, মো. শরিফুল ইসলাম, হাসান হাবিব, মো. রফিকুল ইসলাম এবং ফেরদৌস রহমান।
২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে রয়েছেন আব্দুল গাফফার জিসান, রূপক সালমান ও জাহিদ হাসান।
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে আলোচনায় রয়েছেন শেখ সাদী হাসান, রাসেল আকন্দ ও নাঈম খন্দকার।
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সম্ভাব্য নেতৃত্বে আছেন হামিদুল্লাহ সালমান, মেহেদী হাসান ইমন, সাজ্জাদুল ইসলাম ও আবু নাঈম।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল
শেকৃবি ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের ১০ মে। চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় নতুন কমিটি নিয়ে চলছে আলোচনা।
সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, জিবরাইল শরীফ, রাশেদ খান মিলন, মো. সাইনুর রহমান হৃদয়, মো. রাসেল পারভেজ, মো. জিল্লুর রহমান, শেখ আহসান হাবিব, মো. শোয়াইব ইসলাম এবং মো. সামিউল ইসলাম আকাশ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল
রাবি ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতৃত্বে আলোচনায় রয়েছেন সহসভাপতি মেহেদী হাসান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহের রহমান, সহসভাপতি জান্নাতুন নাঈম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক নাফিউল জীবন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল
জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতৃত্বে আলোচনায় রয়েছেন নূর হোসেন, জহিরুল হক সাইমন, ফেরদৌস মাহমুদ রুবেল, আল মামুন, ওবায়দুল্লাহ নাইম, রায়হান হোসেন, সেলিম মাহমুদ, মিনার হোসেন, দিনারসহ আরও কয়েকজন নেতা।
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে। তৃণমূলের প্রত্যাশা, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের হাতেই আগামী দিনের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
১১ দলীয় জোটকে হারানোর ষড়যন্ত্রে অন্তর্বর্তী সরকারও ছিল: জামায়াত আমির
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে, তাতে অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল। তিনি বলেন, সরকার নিজেই স্বীকার করেছে যে ষড়যন্ত্র করে ১১ দলীয় জোটকে হারানো হয়েছে।

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড
সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।








