জাতীয়


ভারতের গণমাধ্যমে মাহফুজ আলম: জামায়াত ও আ.লীগ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

ভারতের গণমাধ্যমে মাহফুজ আলম: জামায়াত ও আ.লীগ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

ছবি: সংগৃহীত


জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশি রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রাক্তন নেতা ও সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য উইক–কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী হলো আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’ বা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।” তার মতে, দেশের রাজনীতিতে যদি আওয়ামী লীগ টিকে থাকে, তবে জামায়াতও থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আ.লীগও অবশ্যম্ভাবীভাবে থাকবে। তিনি আরও দাবি করেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্বচ্ছ ভিশন বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই।

 

সাক্ষাৎকারটি ২৯ জানুয়ারি প্রচারিত হয়েছে এবং এতে মাহফুজ আলম দেশের রাজনৈতিক আবহ, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, সংস্কারের দৃশ্যমান রূপ এবং গণমাধ্যম ও জনগণের আস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

 

মাহফুজ আলম বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের ভোটের মাঠে তিনি অংশ নেবেন না। তার সরে দাঁড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন জামায়াত ও আ.লীগের পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তিনি বলেন, “আমি চেয়েছিলাম জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিগুলোকে এক করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তোলার। তবে এনসিপি যখন পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোট করল, তখন এই স্বপ্ন পুরোপুরি ভেস্তে যায়।”

 

জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, “যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে, তারা পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যার কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই। বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের কোনো স্বচ্ছ ভিশন বা পরিকল্পনা নেই।”

 

রাষ্ট্র পরিচালনা ও আদর্শিক মূল্যবোধের দিক থেকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের মেলবন্ধন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “গত দেড় বছরের যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে যাওয়া। পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে ফিরে এসেছে, যা জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করেছে।”

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতায় যে দলই আসুক বিএনপি বা জামায়াত সমাজের ভেতরে থাকা ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই টিকে থাকবে না। “শুধু কাগজে কলমে সংস্কার করা যথেষ্ট নয়। সমাজে ভিন্ন মত ও ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা ‘রিনেগোসিয়েশন’ না হলে বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।”

 

মাহফুজ আলম গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মানুষ গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করে না। এই বিশ্বাস ফেরাতে হলে গণমাধ্যমকে জনগণের কাছে তাদের অতীতের ভূমিকার জন্য ক্ষমা বা বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি করতে হবে।”

 

বর্তমানে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মাহফুজ আলম বই পড়া ও হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো কেন বাস্তবায়ন হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোতে হবে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। একই বছরের ১০ নভেম্বর তিনি সরকারের উপদেষ্টা হন এবং ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।


সম্পর্কিত

মাহফুজ আলমজামায়াতআওয়ামী লীগবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

পানি সম্পদ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন ও শপথ সম্পন্ন হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এ বিষয়ে আলাদা কোনো শপথের প্রয়োজন নেই; এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।

মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোত

ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে সেখানে।

তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস তারেক রহমানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে বাণী প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।