জাতীয়
ভারতের গণমাধ্যমে মাহফুজ আলম: জামায়াত ও আ.লীগ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ
.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশি রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রাক্তন নেতা ও সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য উইক–কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী হলো আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’ বা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।” তার মতে, দেশের রাজনীতিতে যদি আওয়ামী লীগ টিকে থাকে, তবে জামায়াতও থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আ.লীগও অবশ্যম্ভাবীভাবে থাকবে। তিনি আরও দাবি করেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে জামায়াতের কোনো স্বচ্ছ ভিশন বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই।
সাক্ষাৎকারটি ২৯ জানুয়ারি প্রচারিত হয়েছে এবং এতে মাহফুজ আলম দেশের রাজনৈতিক আবহ, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, সংস্কারের দৃশ্যমান রূপ এবং গণমাধ্যম ও জনগণের আস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
মাহফুজ আলম বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের ভোটের মাঠে তিনি অংশ নেবেন না। তার সরে দাঁড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন জামায়াত ও আ.লীগের পারস্পরিক অস্তিত্বের সমীকরণ। তিনি বলেন, “আমি চেয়েছিলাম জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিগুলোকে এক করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তোলার। তবে এনসিপি যখন পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোট করল, তখন এই স্বপ্ন পুরোপুরি ভেস্তে যায়।”
জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম আরও বলেন, “যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে, তারা পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যার কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই। বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের কোনো স্বচ্ছ ভিশন বা পরিকল্পনা নেই।”
রাষ্ট্র পরিচালনা ও আদর্শিক মূল্যবোধের দিক থেকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের মেলবন্ধন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “গত দেড় বছরের যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে যাওয়া। পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে ফিরে এসেছে, যা জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করেছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতায় যে দলই আসুক বিএনপি বা জামায়াত সমাজের ভেতরে থাকা ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই টিকে থাকবে না। “শুধু কাগজে কলমে সংস্কার করা যথেষ্ট নয়। সমাজে ভিন্ন মত ও ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা ‘রিনেগোসিয়েশন’ না হলে বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।”
মাহফুজ আলম গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মানুষ গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করে না। এই বিশ্বাস ফেরাতে হলে গণমাধ্যমকে জনগণের কাছে তাদের অতীতের ভূমিকার জন্য ক্ষমা বা বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি করতে হবে।”
বর্তমানে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মাহফুজ আলম বই পড়া ও হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো কেন বাস্তবায়ন হয়নি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। একই বছরের ১০ নভেম্বর তিনি সরকারের উপদেষ্টা হন এবং ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে, ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

৫ বছর টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় হামের ঝুঁকি বেড়েছে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি ও টিকার সংকটের জন্য পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যার ফলেই বর্তমানে সংক্রমণ বেড়েছে।

হামের টিকা বিতর্কে ড. ইউনূসসহ ২৪ উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং টিকাদান কর্মসূচি ঘিরে বিতর্কের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার নতুন সময় জানালেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে। রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।


.jpg)





