জাতীয়


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী, তবু জুলাই সনদের সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন অনিশ্চিত


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী, তবু জুলাই সনদের সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন অনিশ্চিত

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট । ছবি: বিবিসি বাংলা


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হলেও সনদের সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ ছিল, সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ভোটার গণভোটে অংশ নেন। এর মধ্যে চার কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ এবং দুই কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন ‘না’ ভোট দেন। প্রদত্ত ভোটের ৬০ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ হওয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

 

রাষ্ট্রপতি গত ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেন। আদেশ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদে বর্ণিত সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

 

ঐকমত্যের প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধা নেই

জুলাই সনদের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি ছিল সাংবিধানিক। যেসব প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে বড় কোনো জটিলতা দেখছেন না সংবিধান বিশ্লেষকরা।

 

এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, রাষ্ট্রপতির কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা বৃদ্ধি, সাংবিধানিক পদে নিয়োগে বহুপক্ষীয় কমিটি গঠন, সংসদ সদস্যদের ভোটদানে অধিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার বিধান। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

বিতর্কের কেন্দ্রে উচ্চকক্ষ গঠন

তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে। গণভোটের ব্যালটে উল্লেখ ছিল, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।

 

অন্যদিকে, বিএনপি তাদের ইশতেহারে উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে আসনসংখ্যাকে ভিত্তি করার প্রস্তাব দেয়। সদ্য ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়ায় এ প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

 

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেছেন, “উচ্চকক্ষের গঠন বিষয়ে ভোটাররা সরাসরি গণভোটে মত দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ব্যালটে উপস্থাপিত প্রস্তাবই প্রাধান্য পাওয়ার কথা।”

 

নোট অব ডিসেন্ট থাকা প্রস্তাব অনিশ্চিত

জুলাই সনদের কিছু সাংবিধানিক প্রস্তাবে বিএনপিসহ কয়েকটি দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি জানিয়েছিল। আইনজীবী জাহেদ ইকবাল বলেন, “সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশে উল্লেখ আছে নির্বাচনে বিজয়ী দল তাদের ইশতেহার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ফলে যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা নেই।”

 

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রস্তাব ছিল প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না। এ বিষয়ে বিএনপির আপত্তি ছিল এবং তারা ইশতেহারে ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

 

সামনে কী?

মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। পরিষদের মেয়াদ হবে ১৮০ কার্যদিবস। এই সময়ের মধ্যেই গণভোটের ফল এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে চূড়ান্ত সংস্কার প্রস্তাব সংসদে পাস করতে হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটে জনগণের সমর্থন স্পষ্ট হলেও রাজনৈতিক সমীকরণ, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে জুলাই সনদের কোন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে, আর কোনটি আপাতত স্থগিত থাকবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া সংস্কারের পথ খুলে দিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত নিয়ামক এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত

গণভোটজুলাই সনদজাতীয়

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

বদলি বাণিজ্যে শতকোটি টাকার অভিযোগ: আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

অবৈধ প্রক্রিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রারদের ব্যাপক বদলির মাধ্যমে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে, ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

৫ বছর টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় হামের ঝুঁকি বেড়েছে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি ও টিকার সংকটের জন্য পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যার ফলেই বর্তমানে সংক্রমণ বেড়েছে।

হামের টিকা বিতর্কে ড. ইউনূসসহ ২৪ উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং টিকাদান কর্মসূচি ঘিরে বিতর্কের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।