জাতীয়
‘দেড় বছর ছিল প্রাসাদবন্দি সময়’- অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন । ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরকে ‘প্রাসাদবন্দি’ সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, ওই সময়ে তাঁকে অপসারণের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাংবিধানিক অবস্থানে অবিচল থাকার কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “দেড় বছর আমি কোনো আলোচনায় ছিলাম না, অথচ আমাকে নিয়ে নানা চক্রান্ত চলেছে। অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে উপড়ে ফেলার অসংখ্য ছক হয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি।”
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের ঘটনায় পরিস্থিতি ‘বিভীষিকাময়’ হয়ে উঠেছিল। সে সময় সেনাবাহিনী তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ওই রাতকে তিনি তাঁর জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন সময়’ বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও তাঁকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এমনকি একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিচারপতি তা প্রত্যাখ্যান করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। যদি তারা চাইত, তাহলে হয়তো আমাকে অপসারণ করা যেত। কিন্তু বিএনপি ও তাদের জোট সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেয়।”
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁকে সমর্থন জানানো হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক সমন্বয় ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী বিদেশ সফরের পর রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোর অনেকগুলোর বিষয়ে তাঁকে অবহিত করা হয়নি। এছাড়া তাঁর দুই দফা বিদেশ সফর কসোভো ও কাতারে স্থগিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে বাংলাদেশি হাইকমিশনগুলো থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং প্রত্যাহার করা হয়। এতে তাঁর কার্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তথ্য সূত্র: কালের কন্ঠ
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গড়ে তুলতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষির যান্ত্রিকীকরণে একগুচ্ছ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

ধানের শীষ হাতে শুভেচ্ছা, নিরাপত্তাকর্মী আব্দুস সালামের পাশে প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর রমনা এলাকায় একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তাকর্মী আব্দুস সালামের হাতে উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিদিন দায়িত্ব পালনের সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণসভা শনিবার, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

ইরান সফরে গালিবাফের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠক, খামেনি হত্যার নিন্দা
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে জাতীয় শোকের এ সময়ে ইরান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতির বার্তা দিয়েছেন তিনি।







