জাতীয়


নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা: ড. ইউনূসের সিদ্ধান্তে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা: ড. ইউনূসের সিদ্ধান্তে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।

 

তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনটি গত ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়। যদিও বিষয়টি জনসম্মুখে আসে সম্প্রতি।

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সমালোচকদের দাবি, নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে গিয়ে ড. ইউনূস অসততার আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বলেন, যে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে, তা ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবরের এসআরও নং ২৮৫ সংশোধনের মাধ্যমে করা হয়েছে। সেই আদেশে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে পদে কর্মবসানের তারিখ থেকে এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছিল।

 

সমালোচকদের ভাষ্য, ড. ইউনূস ওই আদেশের আলোকে কেবল নিজের জন্য সময়সীমা এক বছর নির্ধারণ করেছেন, অন্যদের ক্ষেত্রে তা বাড়ানো হয়নি।

 

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য আইন পরিবর্তন বা প্রণয়ন করা সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী। তাদের দাবি, ১০ ফেব্রুয়ারি গোপনীয়ভাবে জারি করা অধ্যাদেশটি সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

 

তারা আরও বলেন, যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ আগের আইনে বর্ণিত সবার জন্য সময়সীমা সমানভাবে বাড়ানো হতো, তবে এর যৌক্তিকতা নিয়ে ভিন্ন আলোচনা হতে পারত। কিন্তু কেবল নিজের জন্য এক বছরের সুবিধা নির্ধারণ করা নৈতিকতা ও আইনি ব্যাখ্যার প্রশ্ন তুলেছে।

 

সমালোচকরা আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ড. ইউনূস বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

 

তবে এ বিষয়ে ড. ইউনূস বা তার দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।


সম্পর্কিত

জাতীয়মুহাম্মদ ইউনূস

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

ভিন্নতার মাঝে ঐক্যই আমাদের মূলনীতি: বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন মত ও আদর্শ থাকলেও বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠাই রাষ্ট্রের মূল নীতি হওয়া উচিত। সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসে ন্যূনতম ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আসছে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে বিএনপি-একে পার্টি সম্পর্ক জোরদারের প্রস্তাব

তুরস্কের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ও সংসদ সদস্য জাফের সিরাকায়া সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে।

জনদুর্ভোগের কথা ভেবে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি: তারেক রহমান

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখনো জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।