কখনও শুভেন্দুকে ‘দাদা’ বলে প্রশংসা, কখনও আবার ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে আনার প্রকাশ্য ঘোষণা। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য বহুবার আলোচনায় আসা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী এবার যেন সব সীমাই ছাড়িয়ে গেলেন। বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা একটি প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি এমন এক বক্তব্য দিয়েছেন, যা অনেকের চোখে সরাসরি দেশদ্রোহিতার শামিল।

যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সম্মিলিত রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে, সেই রাষ্ট্রকেই সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভাগ করার ইঙ্গিত দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে এক বিপজ্জনক বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই তাকে ভারতীয় দালাল, আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের মুখপাত্র এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভাজনের রাজনীতির নতুন মুখ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চৈতালী চক্রবর্তী বলেন, “আপনারা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেন তাহলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য চেয়ে আমরা আলাদা একটি প্রদেশ করবো শুধুমাত্র সনাতনীদের জন্য।” তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই শুরু হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। কেননা, কাবাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পৃথক ভূখণ্ডের ধারণাকে সমর্থন করে না। বরং রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সংহতি রক্ষা করাই দেশের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। ফলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য আলাদা প্রদেশের দাবি বা হুমকি অনেকের কাছে রাষ্ট্রবিরোধী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে।

citytouch 728-X-90

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন সমাবেশ ও কর্মসূচিতে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে আনার দাবিও জানাতে দেখা গেছে তাকে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেও তিনি আলোচনায় আসেন। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে তাকে একপ্রকার সনাতনীদের দূত হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে।

৫২ থেকে ৭১ এবং সবশেষ ২৪, বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে- এই দেশের শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি অধ্যায়ে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে বাঙালির সম্মিলিত স্বপ্ন ও জাতীয় চেতনা। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কোনো সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা প্রদেশের ধারণা কেবল রাজনৈতিক বিতর্কই নয়, অনেকের কাছে রাষ্ট্রের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে বিপজ্জনক বার্তা। প্রশ্ন এখন একটাই, সম্প্রীতির কথা বলতে গিয়ে যদি বিভাজনের ভাষা সামনে আসে, তবে সেটি কি সতর্কবার্তা, নাকি দেশদ্রোহিতার এক নতুন রূপ?