নেত্রকোনায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত রিপন মিয়া (৩০) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রিপন ভিডিও’ নামে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগীর বাড়ির পেছনে অভিযুক্তকে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, সালিশে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও এলাকা ছাড়ার জন্য তাকে এক সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়।

citytouch 728-X-90

সোমবার দিবাগত রাতে সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটি নজরে আসার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বুধবার দুপুরে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্তের স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেন, তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানেন না। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন এবং অভিযোগটি তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে আনা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগীর মা জানান, তিনি প্রথমে বিষয়টি জানতেন না। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনে মেয়ের সঙ্গে কথা বললে অভিযোগের বিষয়ে জানতে পারেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।