রাজনীতি
বিএনপি-জামায়াত দুর্বৃত্তপরাণতায় জড়ালে ছাড় দেব না: প্রধানমন্ত্রী
শনিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইনজীবী মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় তিনি বিচার বিভাগের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিলেন। মাত্র ১০ মাসের মাথায় তিনি দেশকে একটি সংবিধান উপহার দেন। যেটা সারা বিশ্বে বিরল। জাতির পিতার হাত ধরেই বাংলাদেশে বিচার কাঠামোর গোড়াপত্তন।
তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা শুধু সংবিধানই দেননি, সাথে সাথে ‘৭২ সালে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাক্টিশনার অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার অ্যান্ড রুলস ১৯৭২ জারি করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৩ সালে ৪৪ শতাংশ জমি বরাদ্ধ দেন। ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করে বেনেভোলেন্ট ফান্ড গঠন করেন। তখন ৫০ হাজার টাকার অনেক মূল্য। আইনজীবীদের কল্যাণ ফান্ডও তিনি তৈরি করে দিয়ে যান। তার অবদান সকলেরই মনে রাখা উচিত।
শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানবধিকার, ন্যায় বিচার, সামাজিক উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, স্বাস্থ্য সমস্ত কিছু জাতির পিতা করে দিয়ে গেছেন। সমুদ্র সীমায় আমাদের যে অধিকার রয়েছে, সে সমুদ্র সীমা আইন তিনি ‘৭৪ সালে করে দেন। জাতিসংঘ করেছিল ১৯৮২ সালে। আমাদের স্থল সীমানা চুক্তি, আইন করে এবং সংবিধান সংশোধন করে এই স্থল সীমায় আমাদের যে অধিকার সেটাও তিনি প্রস্তুত করে যান। যুদ্ধপরাধীর বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারকাজও তিনি শুরু করেছিলেন। আর সেজন্য প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামো তিনি করে দিয়ে গেছেন। আমি নিজেও অবাক হই, একটা মানুষ কীভাবে এত কাজ করেছেন!
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, পাকিস্তান আমলে আইন ছিল, জুডিশিয়াল সার্ভিসে নারীরা যেতে পারবেন না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে আইন পরিবর্তন করে নারীরাও যেন জুডিশিয়ালে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা করেন। তারই পধ ধরে সর্বপ্রথম ২০০০ সালে আমরাই ব্যবস্থা করে দিই, নারীরা যেন উচ্চ আদালতে বিচারপতি হতে পারেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। জিয়াউর রহমানের সহায়তায় খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতা দখল করে। কিন্তু টিকতে পারেনি। যারা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ায়, তারা বেইমানদের ব্যবহার করে, কিন্তু রাখে না। এটাই হলো বাস্তবতা। মোশতাককে বিদায় নিতে হয়। আসল চেহারা বেরিয়ে আসে জিয়াউর রহমানের। একাধারে সেনাপ্রধান এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয় সে।
তিনি বলেন, আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি, এদেশের নাগরিক হিসেবে বিচার পাওয়ার অধিকার আমাদের ছিল। কিন্তু সে অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ইনডেমনিটি আইন জারি করে, শুধু ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা নয়, জিয়াউর রহমান জনগণের ভোট চুরি করে নির্বাচন প্রক্রিয়াও ধ্বংস করেছে। তার হ্যাঁ/না ভোট- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধান এবং মিলিটারি আইন ভঙ্গ করে নিজে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এরপর দল গঠনের মধ্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে কারচুপি করে।
শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৫ আগস্ট আমি আর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলাম, বেঁচে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে বাঁচা বাঁচার মতো না। ‘৮১ সালে দেশে আসার সুযোগ পাই। রেহানার পার্সপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু জিয়াউর রহমান তার পাসপোর্ট দেয়নি। আমার অবর্তমানে আওয়ামী লীগ যখন ৮১ সালে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন আমি এমন একটা দেশে ফিরে এসেছিলাম, যেখানে পিতা-মাতা-ভাইদের হত্যা করেছিল, কিন্তু সে হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, আর তারা ক্ষমতায়। আপনারা একবার ভেবে দেখেন, যেখানে আমি বাবা-মা হত্যার বিচার পাবো না সে আইন রয়েছে, যেখানে যুদ্ধপরাধীদের মুক্ত করে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে…. এসেছি শুধু একটা কারণে, জাতির ওপর যে বিচারহীনতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সাথে সাথে বাংলার দুখী মানুষদের পরিবর্তন হয়নি, এদেশের আপামর জনতা শোষণ-বঞ্চনার শিকার ছিল। আমি তাদের শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্ত করতে দেশে এসেছি।
এ সময় আইনজীবীদের বেনেভোলেন্ট ফান্ডে ত্রিশ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
.jpg)
নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
.jpg)
পুরোনো স্বৈরাচার থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে: এনসিপি
টেলিভিশন সাংবাদিকদের শোকজ নোটিশ প্রদান এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এমডি মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে পুরোনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
.jpg)
খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। তার এ নিয়োগে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই বিস্ময় ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে।
.jpg)
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)