রাজনীতি


বিএনপি-জামায়াত দুর্বৃত্তপরাণতায় জড়ালে ছাড় দেব না: প্রধানমন্ত্রী


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২১ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার

বিএনপি-জামায়াত দুর্বৃত্তপরাণতায় জড়ালে ছাড় দেব না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতসহ অনেকেই মাঠে নামতে চায়। আন্দোলন করুক, এই ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা নেই। কিন্তু আবারও যদি তারা অগ্নিসন্ত্রাস বা ধ্বংসাত্মক কাজ কিংবা দুর্বৃত্তপরাণতায় জড়ালে আমরা কিন্তু ছাড় দেব না।

শনিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইনজীবী মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় তিনি বিচার বিভাগের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিলেন। মাত্র ১০ মাসের মাথায় তিনি দেশকে একটি সংবিধান উপহার দেন। যেটা সারা বিশ্বে বিরল। জাতির পিতার হাত ধরেই বাংলাদেশে বিচার কাঠামোর গোড়াপত্তন।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা শুধু সংবিধানই দেননি, সাথে সাথে ‘৭২ সালে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাক্টিশনার অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার অ্যান্ড রুলস ১৯৭২ জারি করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৩ সালে ৪৪ শতাংশ জমি বরাদ্ধ দেন। ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করে বেনেভোলেন্ট ফান্ড গঠন করেন। তখন ৫০ হাজার টাকার অনেক মূল্য। আইনজীবীদের কল্যাণ ফান্ডও তিনি তৈরি করে দিয়ে যান। তার অবদান সকলেরই মনে রাখা উচিত।

শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানবধিকার, ন্যায় বিচার, সামাজিক উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, স্বাস্থ্য সমস্ত কিছু জাতির পিতা করে দিয়ে গেছেন। সমুদ্র সীমায় আমাদের যে অধিকার রয়েছে, সে সমুদ্র সীমা আইন তিনি ‘৭৪ সালে করে দেন। জাতিসংঘ করেছিল ১৯৮২ সালে। আমাদের স্থল সীমানা চুক্তি, আইন করে এবং সংবিধান সংশোধন করে এই স্থল সীমায় আমাদের যে অধিকার সেটাও তিনি প্রস্তুত করে যান। যুদ্ধপরাধীর বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারকাজও তিনি শুরু করেছিলেন। আর সেজন্য প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামো তিনি করে দিয়ে গেছেন। আমি নিজেও অবাক হই, একটা মানুষ কীভাবে এত কাজ করেছেন!

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, পাকিস্তান আমলে আইন ছিল, জুডিশিয়াল সার্ভিসে নারীরা যেতে পারবেন না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে আইন পরিবর্তন করে নারীরাও যেন জুডিশিয়ালে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা করেন। তারই পধ ধরে সর্বপ্রথম ২০০০ সালে আমরাই ব্যবস্থা করে দিই, নারীরা যেন উচ্চ আদালতে বিচারপতি হতে পারেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। জিয়াউর রহমানের সহায়তায় খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতা দখল করে। কিন্তু টিকতে পারেনি। যারা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ায়, তারা বেইমানদের ব্যবহার করে, কিন্তু রাখে না। এটাই হলো বাস্তবতা। মোশতাককে বিদায় নিতে হয়। আসল চেহারা বেরিয়ে আসে জিয়াউর রহমানের। একাধারে সেনাপ্রধান এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয় সে।

তিনি বলেন, আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি, এদেশের নাগরিক হিসেবে বিচার পাওয়ার অধিকার আমাদের ছিল। কিন্তু সে অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ইনডেমনিটি আইন জারি করে, শুধু ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা নয়, জিয়াউর রহমান জনগণের ভোট চুরি করে নির্বাচন প্রক্রিয়াও ধ্বংস করেছে। তার হ্যাঁ/না ভোট- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধান এবং মিলিটারি আইন ভঙ্গ করে নিজে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এরপর দল গঠনের মধ্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে কারচুপি করে।

শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৫ আগস্ট আমি আর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলাম, বেঁচে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে বাঁচা বাঁচার মতো না। ‘৮১ সালে দেশে আসার সুযোগ পাই। রেহানার পার্সপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু জিয়াউর রহমান তার পাসপোর্ট দেয়নি। আমার অবর্তমানে আওয়ামী লীগ যখন ৮১ সালে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন আমি এমন একটা দেশে ফিরে এসেছিলাম, যেখানে পিতা-মাতা-ভাইদের হত্যা করেছিল, কিন্তু সে হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, আর তারা ক্ষমতায়। আপনারা একবার ভেবে দেখেন, যেখানে আমি বাবা-মা হত্যার বিচার পাবো না সে আইন রয়েছে, যেখানে যুদ্ধপরাধীদের মুক্ত করে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে…. এসেছি শুধু একটা কারণে, জাতির ওপর যে বিচারহীনতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সাথে সাথে বাংলার দুখী মানুষদের পরিবর্তন হয়নি, এদেশের আপামর জনতা শোষণ-বঞ্চনার শিকার ছিল। আমি তাদের শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্ত করতে দেশে এসেছি।

এ সময় আইনজীবীদের বেনেভোলেন্ট ফান্ডে ত্রিশ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


সম্পর্কিত

আওয়ামী লীগবিএনপি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।