রাজনীতি


হতাশ হয়ে দল ছাড়ছেন জবি ছাত্রলীগের কর্মীরা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩০ জুন ২০২৪, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার

হতাশ হয়ে দল ছাড়ছেন জবি ছাত্রলীগের কর্মীরা
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম ইউনিট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। জবি শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আছেন ইব্রাহিম ফরাজী ও এস এম আকতার হোসাইন। ২০২২ সালের পহেলা জানুয়ারি ১ বছরের মেয়াদী দ্বায়িত্ব পান তারা।
বর্তমান কমিটির কার্যকাল দু'বছর ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পুর্ণাঙ্গ হয়নি। নাম মাত্র বিভাগীয় কমিটিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। একটি মাত্র ছাত্রী হলেও কমিটি হয়নি এপর্যন্ত। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। আক্ষেপ নিয়ে দল ছেড়েছে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা কর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিনসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবার পর এই আকাঙ্ক্ষা আরো তীব্র হয়েছে। ১বছরের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে দেড় বছর হয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আশ্বাসেই চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটটি। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ-সিরাজের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পর জবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। দলীয় কোন্দল আর শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিস্বার্থে কর্মীদের কপালে জুটেছে শুধু হতাশা আর আশারবানী। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটটি ধুকছে অবহেলায়। তৈরি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব । হতাশা আর চাঁপা আক্ষেপ নিয়ে অনেকেই ছাড়ছে ছাত্ররাজনীতি। ক্ষয়ে যাচ্ছে নারী নেতৃত্বও। 
মিটিং মিছিলে ছাত্রীদের সংখ্যাও থাকে হাতে গোনা। আংশিক কমিটিতে জায়গা ৩৫ সদস্যের মধ্যে স্থান পায় চার নারী নেত্রী। তারাও নিষ্ক্রিয়। অভিযোগ আছে বিভিন্ন হুমকি ধামকি ও চাপের কারনে দ্বায়িত্বপ্রাপ্তদের অনেকেই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়েছেন। ছেড়েছেন ক্যাম্পাসও।
দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়াই ক্ষোভ প্রকাশ করে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল রায়হান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পর থেকে যেই বন্ধুর সাথে রাজনীতি শুরু করেছি। যেই বন্ধু দীর্য ৬-৭ বছর সংগঠন এর জন্য নিরলস ভাবে পরিশ্রম করার পর ও রাজনৈতিক একটা পরিচয় কপালে জোটে নাই সেই বন্ধুকেই বাস্তবতাকে আলিঙ্গন করে সংগঠন থেকে বিদায় নিয়ে জীবনমুখী সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এই বড় ভাই, বন্ধু কিংবা জুনিয়র এর সংখ্যা অগণিত।
কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাবুল হোসেন পরাগ বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলে তারা বেশি দিন সময় পাবে। যতদিন গতিতে থাকবে তত লাভ।
জবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম আকতার হোসাইন বলেন,"পূর্ণাঙ্গ কমিটির কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। আমরা কেন্দ্রীয় সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি। অতিদ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে যাবে।
এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে নতুন কমিটি গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ করে অতিদ্রুততার সহিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করবো।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, এখানে যারা আমাদের কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন তাদের দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।