বিএনপি যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে দেশের মানুষের পাশে থাকে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান বন্যাদুর্গত অঞ্চলে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২ অক্টোবর, ২০২৪) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহের অগ্রগতি ও দলের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা।
ডা. জাহিদ জানান, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দেশের নানা সংকটময় পরিস্থিতিতে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বন্যায় দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "দক্ষিণাঞ্চলের বন্যায় বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। পাশাপাশি, শিক্ষাকে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, উত্তরবঙ্গের রংপুর, নীলফামারি, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও ফেনী জেলার শহীদ পরিবারের জন্যও সহায়তা পৌঁছানো হবে। এই অঞ্চলে ১৩৭ জন শহীদ পরিবারকে সাহায্য করবে বিএনপি। ত্রাণ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি টাকার সহায়তা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ও খাদ্যদ্রব্য। তিনি বলেন, "বিএনপি কখনো দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস তৈরি করেনি। যেকোনো প্রয়োজনে বিএনপি দেশের মানুষের পাশে ছিল, আছে, এবং থাকবে।"
ডা. জাহিদ বলেন, "আমরা ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নিয়েছি। বিশেষ করে বন্যাদুর্গত অঞ্চলে কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছি। কৃষি খাতের উন্নয়নে আমাদের দলের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। কৃষি ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন সম্ভব নয়।"
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে মূল আলোচনা কেন্দ্র করে ছিল বন্যার্তদের সাহায্য ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে।
দক্ষিণাঞ্চলে চলমান বন্যায় বিএনপির ত্রাণ তৎপরতা প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ বলেন, "এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব করতে আমরা প্রথমে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। এরপরই আমরা পুনর্বাসন ও কৃষি পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছি। কৃষি খাতের ক্ষতি হলে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে। তাই কৃষকদের সাহায্য করা আমাদের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব। এছাড়াও শিক্ষাখাতে আমরা কাজ করছি, কারণ শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হলে এর প্রভাব অনেকদিন ধরে থাকবে।"
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতারা বলেন, দলের প্রতিটি স্তরের নেতা-কর্মীরা বন্যার্তদের সহায়তায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের পক্ষ থেকে ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ এবং সাহায্য সামগ্রী পৌঁছানোর কাজ অব্যাহত থাকবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করছেন এবং তা বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পাঠাচ্ছেন। তারা আরও বলেন, বিএনপি দেশের যে কোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকার নীতিতে বিশ্বাসী এবং সেই নীতি অনুযায়ী তারা কাজ করছেন।
বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রমের ব্যাপক সাড়া প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ বলেন, "দেশের মানুষ আমাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা পাঠিয়েছেন। দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আমরা প্রচুর সহায়তা পাচ্ছি। আমরা যে পরিমাণ সহায়তা পেয়েছি তা দেখে আমি সত্যিই গর্বিত।"
ডা. জাহিদ তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, "এই সাহায্য প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। বন্যায় যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন তাদের পুনর্বাসন করা আমাদের লক্ষ্য। ত্রাণ কার্যক্রম কেবল সাময়িক সাহায্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনও আমাদের কর্মসূচির অংশ।"
তিনি বলেন, "বিএনপি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয়, জনগণের কল্যাণে কাজ করা। আমরা বন্যার্তদের জন্য কাজ করছি এবং দেশের যে কোনো বিপর্যয়ে তাদের পাশে থাকবো।"
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, "বর্তমান সরকার দেশের জনগণের দুর্ভোগের প্রতি অমানবিক আচরণ করছে। তাদের কার্যক্রমে জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে এবং তাদের দুর্দশা লাঘবে কাজ করেছে।"
সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতৃবৃন্দ জানান, তারা বন্যার্তদের সহায়তায় আরও বৃহৎ ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছেন এবং এই কার্যক্রমে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।