রাজনীতি


অভ্যুত্থানে জাতীয় পার্টির অবদানের ফিরিস্তি জি এম কাদেরের


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৮ অক্টোবর ২০২৪, ০২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

অভ্যুত্থানে জাতীয় পার্টির অবদানের ফিরিস্তি জি এম কাদেরের

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের সম্প্রতি দলের অবদানের একটি দীর্ঘ ফিরিস্তি দিয়েছেন। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে জাপার ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার দল ফ্যাসিবাদের দোসর নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে রক্ত দিয়েছে। তাঁর মতে, ছাত্র আন্দোলনে জাপার অবদানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সোমবার বনানী কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জি এম কাদের। তিনি দাবি করেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরাও রক্ত দিয়েছেন, এবং এই সাফল্যকে কেবল ছাত্রদের একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এই অর্জন ভাগবাটোয়ারা করার মতো কোনো সম্পদ নয়, বরং তা রক্তেভেজা এক মহাসাফল্য।
জি এম কাদের তার বক্তব্যে শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করে বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তিনি তাকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সেই সময়কার ছাত্র আন্দোলনে জাপার নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। জাতীয় পার্টির সদস্যরা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল এবং তাদেরও রক্ত ঝরেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের জীবনদানকে গণিমতের মাল মনে না করতে হুঁশিয়ারি দেন।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলোকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানালেও জাতীয় পার্টি সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। জি এম কাদের এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি শক্তিশালী চক্র জাপাকে ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষের দল হিসেবে চিহ্নিত করতে চাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন হত্যা মামলায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জি এম কাদের আরও দাবি করেন যে, শিক্ষার্থীদের পক্ষে তিনি সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরব ছিলেন। তারই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার থেকে আন্দোলন শুরু করেছিল। তিনি প্রথম রাজনীতিবিদ হিসেবে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে যান এবং সেখান থেকেই আন্দোলনের পক্ষে দলীয় সমর্থন ঘোষণা করেন। তাঁর নেতৃত্বে দলের যৌথসভায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
জি এম কাদেরের এই বক্তব্যে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় সব ইস্যুতেই আওয়ামী লীগের সুরে কথা বলার কারণে অনেকেই জাতীয় পার্টিকে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ বলে অভিহিত করে। এই নিয়ে দলের ভেতরেও এক ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে জি এম কাদের এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, জাতীয় পার্টি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের দোসর ছিল না। তিনি দলের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় জাপা দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে বলে অঙ্গীকার করেন।
সভায় জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সভাপতিত্ব করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা সকলেই আন্দোলনের ইতিহাস এবং দলের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।
সভায় জাপার নেতারা দাবি করেন, আন্দোলনের সময়কার ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে জাতীয় পার্টিকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা চলছে। এই ধরনের ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, দলের নেতাকর্মীরা অতীতে যেমন আন্দোলনের সময় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, ভবিষ্যতেও তারা জাতীয় স্বার্থে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
জাপার নেতারা মনে করেন, তাদের এই ভূমিকা যথাযথভাবে স্বীকৃতি না পাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তারা আশা করেন, দেশের জনগণ এবং ইতিহাস তাদের সঠিক মূল্যায়ন করবে এবং তাদের কৃতিত্বকে যথাযোগ্য সম্মান দেবে।
জি এম কাদেরের এই বক্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, জাতীয় পার্টি ছাত্র জনতার আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং সেই অবদানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা যাবে না।

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।