রাজনীতি


অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার

 অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তার অস্ট্রেলিয়া যাত্রার মূল কারণ হল সেখানে অবস্থানরত বড় মেয়ে ডা. শামারুহ মির্জার সঙ্গে দেখা করা। বিএনপির প্রেস উইং সূত্র জানিয়েছে, ফখরুলের মেয়ে ডা. শামারুহ মির্জা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং সেখানে তিনি প্রবাস জীবনযাপন করছেন।
ডা. শামারুহ মির্জার পেশাগত পরিচয় ছাড়াও তিনি একজন সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ সালে তিনি ‘সিতারাস স্টোরি’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী, অলাভজনক সংস্থা সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধ, নিজেকে যত্ন নেওয়া, এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা প্রদান। ‘সিতারাস স্টোরি’ বিভিন্ন কর্মশালা, টক শো, সেমিনার, এবং সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এই সংস্থার মাধ্যমে নারীদেরকে নিজেদের অবস্থান ও শক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
ডা. শামারুহ মির্জার এই সংস্থাটি ২০২১ সালে ‘এসিটি মেন্টাল হেলথ মান্থ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার লাভ করে, যা তাদের কাজের মান এবং সমাজে অবদানের একটি স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। ৪৪ বছর বয়সী শামারুহ ক্যানবেরা কমিউনিটির একজন সক্রিয় সদস্য এবং ২০২১ সালে ‘ক্যানবেরা কমিউনিটি স্পিরিট অ্যাওয়ার্ড’-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের একজন ছিলেন। তার সামাজিক কর্ম এবং কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে প্রশংসিত করেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সফর মূলত ব্যক্তিগত, এবং তার মেয়ের সঙ্গে দেখা করা ও পারিবারিক সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে। তবে ফখরুলের অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছু আলোচনা থাকলেও এটি পুরোপুরি পারিবারিক বিষয় হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবসময় সক্রিয় থাকার কারণে, পারিবারিক সময় কাটানোর সুযোগ খুব একটা পান না ফখরুল। তাই এই সফর তার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাজনীতির এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব, যিনি বর্তমানে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে সক্রিয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ফখরুলের এই সফর এবং তার পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানো, রাজনৈতিকভাবে বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা আলোচনা ছাড়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থা বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, বিশেষত নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি এবং জাতীয় রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে। এই প্রেক্ষাপটে, ফখরুলের এই সফর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কিছুটা বিরতি বলে ধরা যেতে পারে। তবে তার অনুপস্থিতিতে বিএনপি নেতৃবৃন্দ দলের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে জানা গেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলামের এই ব্যক্তিগত সফর তার পারিবারিক জীবন এবং রাজনৈতিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় করার এক চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।