সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ একটি ফেসবুক পোস্টে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যা বেশ আলোড়ন তুলেছে। পোস্টটি মূলত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়। দুদু দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আসল 'মাস্টারমাইন্ড' হচ্ছেন তারেক রহমান। এর বিপরীতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, এই গণআন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো দলের নয়, বরং ছাত্র-জনতার। একই সাথে ড. মুহাম্মদ ইউনূসও তার সহকারী মাহফুজ আলমকে 'মাস্টারমাইন্ড' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এই বিতর্কের মাঝেই সোহেল তাজ রসিকতার ছলে বলেন, "আশ্চর্য হবার কিছুই থাকবে না যদি শোনা যায়, আসল 'মাস্টারমাইন্ড' সজীব ওয়াজেদ জয়।"
পোস্টে সোহেল তাজ স্মরণ করিয়ে দেন, কিভাবে ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লসকে রাজা হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি হয়তো ইঙ্গিত করেছেন যে, বাংলাদেশে রাজনীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিকল্পনাকারী বা নেতৃত্বধারীর আসন কারো জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
মূলত, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে আন্দোলনের কৃতিত্বের দাবি ওঠায় এই বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সোহেল তাজ তার পোস্টে তৃতীয় কোনো শক্তির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, কে বা কারা এই আন্দোলনের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী বা চালিকা শক্তি, তা এখনো অস্পষ্ট।
এটি প্রথমে প্রকাশ পায়, যখন ড. ইউনূস নিউইয়র্কে তার সহকারী মাহফুজ আলমকে 'মাস্টারমাইন্ড' হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ঘুরেফিরে আসছে। শামসুজ্জামান দুদু দাবি করেন, তারেক রহমান এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন এবং যা যা করা দরকার, সবই করেছেন। একই সময়ে জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কৃতিত্ব শুধুমাত্র ছাত্র-জনতার। এর ফলে, রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়।
সোহেল তাজের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনের নেপথ্য পরিকল্পনাকারী হিসেবে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে চান না। বরং, তার বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনীতির পেছনের জটিলতাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তার সজীব ওয়াজেদ জয় প্রসঙ্গটি রসিকতার ছলে বলা হলেও, এতে রাজনৈতিক বিদ্রূপ স্পষ্ট।
তাজউদ্দীন আহমদের সন্তান হিসেবে সোহেল তাজ বাংলাদেশে সম্মানিত একটি নাম। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম মেয়াদে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু ২০০৯ সালে হঠাৎ করেই রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তারপর থেকে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে খুব একটা সক্রিয় নন, তবে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায়।
তার এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সোহেল তাজের এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যখন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের রাজনীতি একটি উত্তাল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন কে বা কারা এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে।
সোহেল তাজের এই মন্তব্য সম্ভবত রাজনৈতিক অঙ্গনের পেছনের কৌশলগুলো সম্পর্কে নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ দেবে।