রাজনীতি


এমপি হয়ে যে সব কাজ করতে চেয়েছিলেন হাদি


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার

এমপি হয়ে যে সব কাজ করতে চেয়েছিলেন হাদি

বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে চাঁদাবাজিমুক্ত একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বপ্ন দেখেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি শুধু প্রতিবাদের রাজনীতি নয়, বাস্তব পরিবর্তনের একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছিলেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কী করতে চান সে কথা অকপটে বলেছিলেন এই তরুণ নেতা।

 

ঢাকা–৮ আসনে নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন হাদি। তিনি বলেছিলেন, একটা কথা বলে রাখি ঢাকা আটের কোনো প্রান্তে চাঁদাবাজি হবে না। সিন্ডিকেটটা অনেক বড়, সব বন্ধ করতে পারবো কিনা জানি না। কিন্তু কিছু কাজ আমি করবই।

 

চাঁদাবাজি প্রতিরোধে নিজের প্রথম পদক্ষেপের কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি। আপসহীন কণ্ঠে হাদি বলেন, ঢাকা আটের একটা সবজিওয়ালা বা ভ্যানওয়ালার কাছ থেকে যদি কেউ চাঁদা তোলে, আর আমি ওসমান হাদি সেটা শুনি আমি আমার টিম নিয়ে সেখানে গিয়ে দাঁড়াবো। তার কাছ থেকে চাঁদা তুলতে হলে আগে আমার গায়ে হাত দিতে হবে।

 

আর যদি কেউ সরাসরি না এসে লোক পাঠিয়ে চাঁদাবাজি চালায় তাদের বিরুদ্ধেও ছিলেন কঠোর। তিনি বলেন, যারা রাঘব বোয়াল, যারা নিজেরা যায় না, লোক পাঠায় তাদের নাম আমি জানবো। সংসদে দাঁড়িয়ে বিসমিল্লাহ বলে প্রত্যেকের নাম প্রকাশ করে দেবো। এরপর যা হবে, সেটা আমার কপালে থাকবে কিন্তু আমি এটা করবই।

 

চাঁদাবাজির পাশাপাশি ঢাকা–৮ এলাকার হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসা সিন্ডিকেট ভাঙার স্বপ্নও দেখেছিলেন হাদি। শাহবাগ, পিজি, বারডেম, ঢাকা মেডিকেল এই হাসপাতালগুলোর আশপাশে গড়ে ওঠা দালাল ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটকে তিনি এক ধরনের মানবিক অপরাধ হিসেবে দেখতেন।

 

হাদি বলেছিলেন, এমন অবস্থা আপনি মারা গেলেও আপনার লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট বসে আছে। ২০ হাজার টাকা না দিলে লাশ তোলা হয় না। ১৫ হাজার বললেও রাজি না। ভাবেন, আমরা কী দেশে বাস করছি!

 

এই অবস্থার পরিবর্তনে তরুণদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো দাঁড় করানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আমি ইনকিলাব মঞ্চের ভাই আর ঢাকা আটের তরুণদের নিয়ে ভলান্টিয়ার টিম করবো। হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবো। কোন ডিপার্টমেন্টে যাবেন, কোথায় যাবেন সব জায়গায় আমাদের ভলান্টিয়াররা সাপোর্ট দেবে।

 

তার লক্ষ্য ছিল হাসপাতাল এলাকায় এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষ আর দালালের শিকার হবে না। বুথ স্থাপন করে রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে সহায়তা করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।

 

নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে হাদি বলেছিলেন, আমি অনেক বড় বড় স্বপ্নের কথা বলতে পারি। কিন্তু আমি যেটা বলি, ইনশাআল্লাহ সেটার জন্যই বলি। আমি যা বলি, তা করার জন্যই বলি।

তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন সৎ ও কার্যকর এমপি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই চাপে ফেলতে পারে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, আল্লাহ যদি আমাকে এমপি বানান, তাহলে বাকি ২৯৯ জন এমপি ইনশাআল্লাহ পরের নির্বাচনে তাদের ভোটারদের চাপে পড়বেন। তারা শুনতে বাধ্য হবেন এই ছেলেটা যদি পারে, আপনারা কেন পারলেন না?

 

এমন অসংখ্য স্বপ্ন, পরিকল্পনা আর প্রত্যাশা নিয়েই আজ (শনিবার) চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন শরিফ ওসমান হাদি। মাটির ঘরে শুয়ে থাকা এই তরুণ বিপ্লবীর স্বপ্নগুলো এখন প্রশ্ন হয়ে রইল কবে বাস্তব হবে সেই স্বপ্নের রাজনীতি?


জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।