রাজনীতি


ভোলার চার আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই, বিএনপি জামায়াত ও বিজেপির ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার

ভোলার চার আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই, বিএনপি জামায়াত ও বিজেপির ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলার চারটি সংসদীয় আসন এখন পুরোপুরি নির্বাচনি উত্তাপে ভরপুর। গ্রাম থেকে শহর, হাটবাজার থেকে নদীপাড় সবখানেই প্রার্থীদের পোস্টার, মাইকিং আর গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো জেলা। ভোলার এসব আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ভোটারদের আলোচনায় ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণায়, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হবে বিএনপি, জামায়াত ও বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যেই।


নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ থাকলেও সহিংসতার ছায়াও পড়েছে। বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটের পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


ভোলা সদর আসন হিসেবে পরিচিত ভোলা-১ সংসদীয় আসনে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির গোলাম নবি আলমগীর, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা এবং এনসিপির অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান। এসব প্রার্থী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ভোটারদের বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নয়, বরং যিনি এলাকার বাস্তব উন্নয়ন করবেন তাকেই তারা বেছে নিতে চান। এ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও বিজেপির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত, আবার বিএনপি ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যেও কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে, যা নির্বাচনি উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

Related posts here


বিএনপি প্রার্থী গোলাম নবি আলমগীর বলেন, তিনি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এবং নির্বাচিত হলে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও গ্যাস সুবিধা বাস্তবায়নে কাজ করবেন। জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে জামায়াতকে বেছে নেবে। তিনি ভোলায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের আশ্বাস দেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা জনগণের পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে বিজেপিও তাদের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। দলের নেতা জামাল উদ্দিন চকেট জানান, দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এনসিপির প্রার্থী জিয়াউর রহমানও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন। ভোলা সদর আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ৮৭ জন। 


বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-২ সংসদীয় আসনেও নির্বাচনি উত্তেজনা কম নয়। দুটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নের এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম, জামায়াতের মওলানা ফাজলুল করীম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল করীম বোরহানি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এনসিপি থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা না হলেও দলীয় আহ্বায়ক মেহেদি হাসান শরীফের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন মহিবুল্লাহ খোকন। ভোটারদের মতে, এই আসনে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি অভিযোগও উঠেছে।


বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম অভিযোগ করে বলেন, বহিরাগতদের এনে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বিজয়ী হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ফাজলুল করীম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জনগণ তাদের পাশে রয়েছে এবং তারা জয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন। ভোলা-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৬১৮ জন।


লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-৩ সংসদীয় আসনেও প্রচারণা জোরেশোরে চলছে। দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম, জামায়াতের নেজামুল হক এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন ভোটের মাঠে রয়েছেন।

 

 এনসিপি থেকে এখনো প্রার্থী ঘোষণা না হলেও ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন ও আক্তারুজ্জামান টিটুর নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রার্থীরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি এর আগেও একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং জনগণের সমর্থন তার পক্ষেই রয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯০৬ জন।


চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-৪ সংসদীয় আসনেও নির্বাচনি লড়াই বেশ জমে উঠেছে। দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২২টি ইউনিয়নের এই আসনে বিএনপির নুরুল ইসলাম নয়ন, জামায়াতের মোস্তফা কামাল এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কামাল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এনসিপি থেকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন না এলেও সাহাদাত খন্দকার মনজুরের নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে প্রচারণা ও জনপ্রিয়তায় বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তবে গণসংযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা উত্তপ্ত করে তুলেছে। ভোলা-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৮ জন।


এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীর রহমান বলেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে এবং প্রার্থীরা যাতে আচরণবিধি মেনে চলেন, সে বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

 

  • প্রতিবেদন: মোঃ সামিরুজ্জামান

 


সম্পর্কিত

বিএনপিজামায়াতবিজেপিনির্বাচনভোলা

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।