রাজনীতি


জামায়াতের সঙ্গে জোট না করতে নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার

জামায়াতের সঙ্গে জোট না করতে নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলীয় জোটের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা। শনিবার রাতে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা ও দলীয় মূল্যবোধের আলোকে সম্ভাব্য জোট বিষয়ে নীতিগত আপত্তি সংক্রান্ত স্মারকলিপি’ শিরোনামে পাঠানো ওই চিঠিতে নেতারা স্পষ্টভাবে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। চিঠিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক ভূমিকা উদ্বেগজনক। বিভাজনমূলক রাজনীতি, অন্যান্য দলে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটেজ, এনসিপির ওপর অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার, এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এনসিপি ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্রহননের চেষ্টার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এসব কর্মকাণ্ডকে ভবিষ্যতের জন্য ‘অশনিসংকেত’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস—বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সেই সময়ের অপরাধ নিয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। এ অবস্থায় জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গড়ে তোলা হলে এনসিপির নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে এবং দলটির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

 

Related posts here

 

নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একাধিকবার ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ইতোমধ্যে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মাত্র কয়েকটি আসনের জন্য কোনো জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে বলেও তারা মত দেন।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনার খবর গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই দলের সমর্থক ও সংগঠকদের একটি বড় অংশ এনসিপির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন। এতে করে মধ্যপন্থি ও নতুন রাজনৈতিক ধারা প্রত্যাশী মানুষদের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দলের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।

 

সবশেষে নেতারা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে জামায়াতের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা উচিত; কৌশলগত সুবিধার জন্য নীতিকে বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনীসহ আরও অনেকে।


সম্পর্কিত

নাহিদ ইসলামজামায়াতএনসিপি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।