রাজনীতি


আগামীকাল জকসু নির্বাচন, উৎসবের আমেজে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার

আগামীকাল জকসু নির্বাচন, উৎসবের আমেজে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায়ের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে ভোটকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে আবাসনসহ নানা সংকটে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জকসু নির্বাচন ছিল বহুল আকাঙ্ক্ষিত দাবি। জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা বারবার জকসুর দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। অবশেষে আগামী ৩০ তারিখ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে।

 

ভোটের আগমুহূর্তে ক্যাম্পাসে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার চিত্র। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এত বছর পর জকসু নির্বাচন হওয়ায় তারা আনন্দিত এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে চান। অনেক শিক্ষার্থী আশা করছেন, জকসুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যা ও অন্যান্য শিক্ষার্থী-সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

 

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক তৎপরতা। প্রার্থীরা ক্যাম্পাসজুড়ে গণসংযোগ করছেন, ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে খুবই আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। সবাই সবার সঙ্গে কথা বলছে, ভোট চাইছে এবং উৎসবের মতো আবহ তৈরি হয়েছে।

 

Related posts here

 

ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী একেএম রাকিবও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো রয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই এই আয়োজন পূর্ণতা পাবে বলে তিনি আশাবাদী।

 

তবে নির্বাচনের আনন্দের পাশাপাশি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক পক্ষ অভিযোগ করেছে, নির্বাচনী প্রচারণায় বড় রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই কালো টাকার প্রভাব পড়ায় উৎসবের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

সব অভিযোগ ও শঙ্কার মধ্যেও ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। জকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জন্য ৩৮টি এবং একটি হল সংসদের জন্য মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শেষ মুহূর্তেও কিছু অভিযোগ এসেছে বলে তিনি জানান।

 

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং সবাইকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্বাচনের দিকে তাকানোর আহ্বান জানান।

 

সব মিলিয়ে, বহু বছরের প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জকসু নির্বাচন ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেমন রয়েছে উৎসবের আবহ, তেমনি রয়েছে প্রত্যাশা, শঙ্কা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আশা-আকাঙ্ক্ষা।


সম্পর্কিত

জকসু নির্বাচনরাজনীতিজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়নির্বাচন

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।