রাজনীতি


কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন করছেন না, টাঙ্গাইল-৮ এ কার দিকে যাবে তাঁর ভোটব্যাংক?


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার

কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন করছেন না, টাঙ্গাইল-৮ এ কার দিকে যাবে তাঁর ভোটব্যাংক?

বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনে ভোটের সমীকরণ নতুন করে বদলে গেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগও নির্বাচনের বাইরে থাকায় কাদের সিদ্দিকীর দীর্ঘদিনের শক্তিশালী ভোটব্যাংক বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে যাবে তা নিয়ে এলাকায় জোর আলোচনা চলছে।

 

গত শনিবার বিকেলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা থেকেই দলটির জন্ম। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সে ধরনের নির্বাচনী পরিবেশ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জানমালের নিরাপত্তাহীনতা এবং সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হওয়ায় দলটি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম নিজেও টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে তাঁর একRelated posts hereটি বড় ও সুসংগঠিত ভোটব্যাংক ছিল। এবার আওয়ামী লীগও নির্বাচনে না থাকায় সেই ভোট কোন দিকে যাবে সেটিই এখন স্থানীয় রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয়।

 

টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর, যিনি প্রায় এক বছর ধরে এলাকায় সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

Related posts here

 

উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন বলেন, এই আসনে কাদের সিদ্দিকীর বড় একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। আওয়ামী লীগও নেই। আমরা নির্বাচনে থাকলে বিপুল ভোটে জিততাম। তবে এই পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি না বা ভোট কোন দিকে যাবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের প্রধান সমর্থক ও সদ্য পদত্যাগ করা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাছেদ বলেন, বিএনপির একটি অংশের পাশাপাশি কাদের সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বড় একটি অংশ সালাউদ্দিন আলমগীরের সঙ্গে আছে। কোনো ধরনের কারচুপি না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন বলে আমরা আশাবাদী।

 

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির আলামিন মিয়া বলেন, এই আসনের মানুষ নৌকা, ধানের শীষ ও গামছা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেখেছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পায়নি। এবার ভোটাররা আস্থার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার দিকে ঝুঁকছেন।

 

বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান বলেন, যারা নির্বাচনে আসতে ভয় পায় তারাই বলে পরিবেশ নেই। জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্বাচনের বিকল্প নেই। তারেক রহমান দেশে ফেরার পর মানুষ নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছে। ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণ অপেক্ষা করছে।

 

এ ছাড়া এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্র সমাজের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাজমুল হাসান মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ না থাকায় জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বাড়ছে।

 

সব মিলিয়ে, কাদের সিদ্দিকী নির্বাচনের বাইরে থাকায় টাঙ্গাইল-৮ আসনে ভোটের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।


সম্পর্কিত

কাদের সিদ্দিকীনির্বাচন

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএনপি জানালেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন কারা পাবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজপথে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীরাই মনোনয়নে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।