রাজনীতি
চরমোনাইয়ের মনোনয়নে: কুড়িগ্রাম-২ আসনে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ
.webp)
কুড়িগ্রাম-২ (রাজারহাট–ফুলবাড়ি–কুড়িগ্রাম সদর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা নূর বখতকে মনোনয়ন দেওয়ায় এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সুবিধাভোগী ভূমিকায় যুক্ত থাকা একজন ব্যক্তিকে প্রার্থী করায় দলের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ভোটারদের অভিযোগ, নূর বখত দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং নির্বাচনের আগমুহূর্তে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা আওয়ামীপন্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির রেফারেন্স ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজারহাট, ফুলবাড়ি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে নূর বখত দলটির বিভিন্ন কর্মসূচি ও সমাবেশে সক্রিয় ছিলেন। মসজিদ ও মাহফিলে আওয়ামী নেতাদের জন্য দোয়া, দলীয় সভা–সমাবেশে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উপস্থিতির ছবি–ভিডিও এখনো প্রচলিত রয়েছে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও ছাত্র–জনতার বিপক্ষে অবস্থানের অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে। ওই সময় কুড়িগ্রাম শহরে সংঘর্ষের দিন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তার উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ওলামা লীগের এক দায়িত্বশীল জানান, নূর বখত দলটির সঙ্গে পরামর্শকের ভূমিকায় যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন মাওলানাকে ওলামা লীগে যুক্ত করতে ভূমিকা রেখেছেন। জেলার শিক্ষক সংগঠনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘স্বাধীনতা মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ’-এর দায়িত্বেও ছিলেন।
গত ৫ নভেম্বর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত একটি টেলিভিশন টকশোতে সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে প্রশ্ন ওঠে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে হাতপাখার প্রার্থী করা হলো। সে সময় ইসলামী আন্দোলনের জেলা নেতারা এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার প্রত্যাশায় নূর বখত প্রার্থী হলেও সাধারণ ভোটাররা তাকে গ্রহণ করছেন না। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাখ্যানের যে মনোভাব জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তাতে এই মনোনয়ন ইসলামী আন্দোলনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাওলানা নূর বখত বলেন, তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দোয়া–খায়েরের জন্য অংশগ্রহণ করলেও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড
সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।








