রাজনীতি


চরমোনাইয়ের মনোনয়নে: কুড়িগ্রাম-২ আসনে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার

চরমোনাইয়ের মনোনয়নে: কুড়িগ্রাম-২ আসনে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ

কুড়িগ্রাম-২ (রাজারহাট–ফুলবাড়ি–কুড়িগ্রাম সদর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা নূর বখতকে মনোনয়ন দেওয়ায় এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সুবিধাভোগী ভূমিকায় যুক্ত থাকা একজন ব্যক্তিকে প্রার্থী করায় দলের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

 

ভোটারদের অভিযোগ, নূর বখত দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং নির্বাচনের আগমুহূর্তে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা আওয়ামীপন্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির রেফারেন্স ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজারহাট, ফুলবাড়ি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে নূর বখত দলটির বিভিন্ন কর্মসূচি ও সমাবেশে সক্রিয় ছিলেন। মসজিদ ও মাহফিলে আওয়ামী নেতাদের জন্য দোয়া, দলীয় সভা–সমাবেশে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উপস্থিতির ছবি–ভিডিও এখনো প্রচলিত রয়েছে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও ছাত্র–জনতার বিপক্ষে অবস্থানের অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে। ওই সময় কুড়িগ্রাম শহরে সংঘর্ষের দিন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তার উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা।

 

Related posts here

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ওলামা লীগের এক দায়িত্বশীল জানান, নূর বখত দলটির সঙ্গে পরামর্শকের ভূমিকায় যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন মাওলানাকে ওলামা লীগে যুক্ত করতে ভূমিকা রেখেছেন। জেলার শিক্ষক সংগঠনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘স্বাধীনতা মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ’-এর দায়িত্বেও ছিলেন।

 

গত ৫ নভেম্বর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত একটি টেলিভিশন টকশোতে সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে প্রশ্ন ওঠে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে হাতপাখার প্রার্থী করা হলো। সে সময় ইসলামী আন্দোলনের জেলা নেতারা এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ ওঠে।

 

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার প্রত্যাশায় নূর বখত প্রার্থী হলেও সাধারণ ভোটাররা তাকে গ্রহণ করছেন না। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাখ্যানের যে মনোভাব জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তাতে এই মনোনয়ন ইসলামী আন্দোলনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাওলানা নূর বখত বলেন, তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দোয়া–খায়েরের জন্য অংশগ্রহণ করলেও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।


সম্পর্কিত

কুড়িগ্রামআওয়ামী লীগ

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পুরোনো স্বৈরাচার থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে: এনসিপি

টেলিভিশন সাংবাদিকদের শোকজ নোটিশ প্রদান এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এমডি মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে পুরোনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’

সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। তার এ নিয়োগে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই বিস্ময় ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে।