রাজনীতি


কুষ্টিয়ার চার সংসদীয় আসনে মনোনয়ন জমা ৩৩ জনের, বিএনপিতে বিদ্রোহে জটিল সমীকরণ


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

কুষ্টিয়ার চার সংসদীয় আসনে মনোনয়ন জমা ৩৩ জনের, বিএনপিতে বিদ্রোহে জটিল সমীকরণ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরগুলোতে ছিল ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা।

 

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া–১ ও কুষ্টিয়া–৪ আসনে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়া–২ ও কুষ্টিয়া–৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীদের বাইরে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার।

 

কুষ্টিয়া–১ (দৌলতপুর)
এই আসনে মোট ৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন। তবে বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় দলটির ভেতরের বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

কুষ্টিয়া–২ (মিরপুর–ভেড়ামারা)
এ আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপির পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দাখিল করেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দলের নায়েবে আমির আবদুল গফুর মনোনয়নপত্র জমা দেন। এখানে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনী সমীকরণ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

Related posts here

 

কুষ্টিয়া–৩ (সদর)
এই আসনে মোট ৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এবং জামায়াতের প্রার্থী জেলা ইউনিট সদস্য আমির হামজা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় এই আসনেও বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ জটিলতা নেই।

 

কুষ্টিয়া–৪ (কুমারখালী–খোকসা)
সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে এই আসনে মোট ১০টি। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জামায়াতের পক্ষে মনোনয়ন দেন কুমারখালী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আফজাল হোসেন। তবে এ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন সবচেয়ে প্রকট। দলের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিশেষ করে কুষ্টিয়া–৪ আসনে বিএনপির জন্য নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে। এখন মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার পর্ব শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা কেমন দাঁড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন।


সম্পর্কিত

বিএনপিকুষ্টিয়াসংসদ নির্বাচন

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএনপি জানালেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন কারা পাবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজপথে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীরাই মনোনয়নে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।