রাজনীতি


দিনাজপুরের মেয়ে ‘পুতুল’-এর স্মৃতিবিজড়িত তৈয়বা ভিলায় শোকের স্তব্ধতা


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

দিনাজপুরের মেয়ে ‘পুতুল’-এর স্মৃতিবিজড়িত তৈয়বা ভিলায় শোকের স্তব্ধতা

দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর জন্মভূমি দিনাজপুরে। শহরের বালুবাড়ি এলাকার স্মৃতিবিজড়িত তৈয়বা ভিলা যেখানে কেটেছে খালেদা জিয়ার শৈশব ও কৈশোর আজ নীরবতা আর অশ্রুর সাক্ষী।

 

মঙ্গলবার সকাল থেকেই তৈয়বা ভিলার সামনে ভিড় করেন শোকার্ত স্থানীয় মানুষ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা। কারও চোখে বিস্মৃত স্মৃতি, কারও চোখে অশ্রু দিনাজপুর যেন হারিয়েছে নিজের এক আপন মানুষকে।

 

খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরেই তাঁর জন্ম। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। বালুবাড়ি এলাকার তৈয়বা ভিলাতেই কেটেছে তাঁর শৈশবের দিনগুলো। বর্তমানে ঐতিহাসিক এই বাড়িটিতে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চলছে, তবে আজ সেটি যেন শুধুই স্মৃতির ঘর।

 

মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শহরের জেলমোড় এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ছুটে যান নেতাকর্মীরা। দলীয় কার্যালয় ও তৈয়বা ভিলায় কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

 

খালেদা জিয়ার খালাতো ভাই আবু তাহের আবু আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের অভিভাবক। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভীষণ আন্তরিক ছিলেন। ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিনাজপুরে এসে আমাকে আদর করে বলেছিলেন ‘কিরে পটল, কেমন আছিস?’ তিনি বাসায় এলে সবার কথা মন দিয়ে শুনতেন। সবশেষ ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে গোর-এ-শহীদ ময়দানে জনসভায় এসেছিলেন। এর আগে ২০০৮ সালে মায়ের মৃত্যুর সময় এসেছিলেন।

 

Related posts here

 

খালেদা জিয়ার শিক্ষাজীবনের শুরুও দিনাজপুরেই। পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুর মিশন স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে ১৯৬০ সালে ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে, সেখান থেকেই ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি কলেজে (সাবেক সুরেন্দ্রনাথ কলেজ)।

 

দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা ইয়াসমিন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুরের গর্ব, দেশের গর্ব। আমরা গর্ব করে বলি তিনি এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবক হারাল।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নিজের জন্মভূমি দিনাজপুর-৩ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। গত ২৮ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রিয় নেত্রীর প্রার্থিতার খবরে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন দিনাজপুরের বিএনপি নেতাকর্মীরা, শুরু হয়েছিল জোর প্রচারণা।

 

জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, বাংলাদেশ আজ একজন আপসহীন নেত্রীকে হারাল। এই শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। দিনাজপুরের মানুষ তাঁকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিল। দিনাজপুরের উন্নয়নে তিনি স্থায়ী স্বাক্ষর রেখে গেছেন। জাতির ইতিহাসে তিনি চিরকাল কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন।

 

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মোকাররম হোসেন বলেন, আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছি। জেলার সর্বত্র শোকের মাতম চলছে। নেতাকর্মীরা দলে দলে তাঁর জানাজায় শরিক হতে রাজধানীর পথে রওনা হচ্ছেন। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

 

দিনাজপুরের আকাশ-বাতাস আজ ভারী। তৈয়বা ভিলার দেয়ালে দেয়ালে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে এক নাম পুতুল, যে নাম থেকে উঠে এসে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।


সম্পর্কিত

দিনাজপুরখালেদা জিয়াবিএনপি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএনপি জানালেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন কারা পাবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজপথে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীরাই মনোনয়নে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।