রাজনীতি
দিনাজপুরের মেয়ে ‘পুতুল’-এর স্মৃতিবিজড়িত তৈয়বা ভিলায় শোকের স্তব্ধতা
.webp)
দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর জন্মভূমি দিনাজপুরে। শহরের বালুবাড়ি এলাকার স্মৃতিবিজড়িত তৈয়বা ভিলা যেখানে কেটেছে খালেদা জিয়ার শৈশব ও কৈশোর আজ নীরবতা আর অশ্রুর সাক্ষী।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই তৈয়বা ভিলার সামনে ভিড় করেন শোকার্ত স্থানীয় মানুষ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা। কারও চোখে বিস্মৃত স্মৃতি, কারও চোখে অশ্রু দিনাজপুর যেন হারিয়েছে নিজের এক আপন মানুষকে।
খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরেই তাঁর জন্ম। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। বালুবাড়ি এলাকার তৈয়বা ভিলাতেই কেটেছে তাঁর শৈশবের দিনগুলো। বর্তমানে ঐতিহাসিক এই বাড়িটিতে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চলছে, তবে আজ সেটি যেন শুধুই স্মৃতির ঘর।
মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শহরের জেলমোড় এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ছুটে যান নেতাকর্মীরা। দলীয় কার্যালয় ও তৈয়বা ভিলায় কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
খালেদা জিয়ার খালাতো ভাই আবু তাহের আবু আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের অভিভাবক। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভীষণ আন্তরিক ছিলেন। ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিনাজপুরে এসে আমাকে আদর করে বলেছিলেন ‘কিরে পটল, কেমন আছিস?’ তিনি বাসায় এলে সবার কথা মন দিয়ে শুনতেন। সবশেষ ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে গোর-এ-শহীদ ময়দানে জনসভায় এসেছিলেন। এর আগে ২০০৮ সালে মায়ের মৃত্যুর সময় এসেছিলেন।
খালেদা জিয়ার শিক্ষাজীবনের শুরুও দিনাজপুরেই। পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুর মিশন স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে ১৯৬০ সালে ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে, সেখান থেকেই ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি কলেজে (সাবেক সুরেন্দ্রনাথ কলেজ)।
দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা ইয়াসমিন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুরের গর্ব, দেশের গর্ব। আমরা গর্ব করে বলি তিনি এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবক হারাল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নিজের জন্মভূমি দিনাজপুর-৩ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। গত ২৮ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রিয় নেত্রীর প্রার্থিতার খবরে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন দিনাজপুরের বিএনপি নেতাকর্মীরা, শুরু হয়েছিল জোর প্রচারণা।
জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, বাংলাদেশ আজ একজন আপসহীন নেত্রীকে হারাল। এই শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। দিনাজপুরের মানুষ তাঁকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিল। দিনাজপুরের উন্নয়নে তিনি স্থায়ী স্বাক্ষর রেখে গেছেন। জাতির ইতিহাসে তিনি চিরকাল কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন।
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মোকাররম হোসেন বলেন, আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছি। জেলার সর্বত্র শোকের মাতম চলছে। নেতাকর্মীরা দলে দলে তাঁর জানাজায় শরিক হতে রাজধানীর পথে রওনা হচ্ছেন। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
দিনাজপুরের আকাশ-বাতাস আজ ভারী। তৈয়বা ভিলার দেয়ালে দেয়ালে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে এক নাম পুতুল, যে নাম থেকে উঠে এসে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড
সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।








