রাজনীতি


দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর ইন্ধনে টিপু হত্যা!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৫ এপ্রিল ২০২২, ০৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর ইন্ধনে টিপু হত্যা!

রাজধানীর মতিঝিল এলাকার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার ও যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যার প্রতিশোধ নিতেই খুন করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইন্ধন জুগিয়েছেন বিদেশে পলাতক আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী।

 

টিপু হত্যার ইন্ধন জোগানো সেই দুই সন্ত্রাসী হলেন ফ্রিডম মানিক ও জিসান। তারা দুইজনই বর্তমানে দুবাইতে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

 

টিপু হত্যার তদন্তকারী সংস্থা ডিবির একটি সূত্র জানায়, মতিঝিল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা মরিয়া হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তাদের পথের কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন টিপু। তাই রাজনৈতিক বিবাদ ও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ স্পৃহাকে কাজে লাগিয়ে টিপুকে হত্যার ইন্ধন দেন ফ্রিডম মানিক ও জিসান। তাদের নির্দেশে টিপুকে হত্যা করা হয়।

 

তবে এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ডিবির কর্মকর্তারা।

 

ডিবির একটি সূত্র জানায়, টিপুকে হত্যার জন্য গ্রেপ্তারকৃত শ্যুটার মাসুমকে ভাড়া করেছিল তারই বন্ধু মোল্লা শামীম। তিনি স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। টিপুকে হত্যার সময় যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল সেটি চালিয়েছেন শামীম। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারেন তিনি।

 

এই হত্যাকাণ্ডের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেছেন সুমন শিকদার ওরফে মুসা। তিনি ঘটনার ১২ দিন আগে দুবাই চলে যান। সেখানে বসেই টিপু হত্যার সর্বশেষ ছক কষেন। টিপু হত্যার মাস্টারমাইন্ড গ্রেপ্তারকৃত ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করেন মুসা। তিনিই শামীমকে তথ্য সরবরাহ করেন।

 

টিপু হত্যায় রিমান্ডে থাকা মাসুম জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন। তাকে সাত দিনের রিমান্ড শেষ মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে পারেন।

 

মাসুম জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কিলিং মিশনে তার সঙ্গে মোল্লা শামীম ছিল। শামীমের মোটরসাইকেলে করেই শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শো-রুমের সামনে আসেন মাসুম। তারপর টিপুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে আবার শামীমের মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

 

২৪ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শো-রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা টিপু। এ সময় টিপুর গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা সামিয়া আফরান প্রীতি (১৯) নামের আরেক এক কলেজছাত্রীও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন টিপুর গাড়িচালক মুন্নাও।

 

এ ঘটনায় শুক্রবার টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। পরে এই ঘটনায় প্রথমে শ্যুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ ও আরফান উল্লাহ ওরফে দামাল নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আরো ওমর ফারুকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।

 

র্যাবের হাতে গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ (৩৮), মো. নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির (৩৮), এবং মো. মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশকে (৫১)।


জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।