রাজনীতি


জামায়াত প্রার্থী শিশির মনিরের ব্যাংকে জমা মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা, বছরে আয় ৫১ লাখ


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার

জামায়াত প্রার্থী শিশির মনিরের ব্যাংকে জমা মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা, বছরে আয় ৫১ লাখ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আয় ও সম্পদের বিস্তারিত চিত্র। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া এসব হলফনামা অনুযায়ী, জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক আয়ের তথ্য দিয়েছেন সুনামগঞ্জ–২ আসনের প্রার্থী, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, আইন পেশা থেকে মোহাম্মদ শিশির মনিরের বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকে তাঁর আয় দেখানো হয়েছে ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর নামে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা।

 

সুনামগঞ্জ–১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহমদ পেশায় শিক্ষক। হলফনামা অনুযায়ী, শিক্ষকতা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭০ হাজার ৮৪১ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ১১ হাজার ১১০ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৩ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র। স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে কৃষি ও অকৃষি জমি এবং একটি ভবন।

 

সুনামগঞ্জ–২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরের হলফনামায় আরও উল্লেখ রয়েছে, তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, মোটরযান, স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নামে ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র এবং স্থায়ী আমানতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে স্ত্রীর নামে প্রায় দুই একর অকৃষি জমির তথ্য দেওয়া হয়েছে।

 

সুনামগঞ্জ–৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খানও পেশায় আইনজীবী। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩ টাকা। অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, ব্যাংক আমানত ও শেয়ার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের হওয়া ৩৬টি মামলার তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি এখনো চলমান।

 

সুনামগঞ্জ–৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন আইন পেশা থেকে বছরে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি কৃষি খাত ও ভাড়া থেকে আয় রয়েছে তাঁর। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, মোটরযান, স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক পণ্য। হলফনামায় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সুনামগঞ্জ–৫ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ভাড়া ও ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয়ের তথ্য দিয়েছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, মোটরযান, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থাও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

 

সুনামগঞ্জ জেলার জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আয় ও সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সুনামগঞ্জ–২ আসনের প্রার্থী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।


সম্পর্কিত

জামায়াত ইসলামীশিশির মনিরসংসদ নির্বাচন

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।