রাজনীতি


ছাত্রদল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না: জকসু জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা


ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত:১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার

ছাত্রদল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না: জকসু জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল–ছাত্রঅধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ছড়ানো অপপ্রচার ও কটূক্তির বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লাইভে এসে খাদিজা বলেন, “ছাত্রদল কখনো ধর্ম ব্যবসা করে না। আমি নির্বাচনে হারতে পারি, কিন্তু ছাত্রদল ছাড়বো না।” তিনি অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু ঘটনা বিকৃত করে তাকে ধর্মবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন স্থগিতের দিন ভাইরাল হওয়া মাইক কাড়াকাড়ির ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে এডিট করে প্রচার করা হয়েছে। সেদিন জকসু নির্বাচনের দাবিতে সম্মিলিত আন্দোলন চলছিল। সেখানে কোনো দলীয় স্লোগান বা ‘নারায়ে তাকবির’ দেওয়ার পরিস্থিতি ছিল না।” তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায়, তিনি নিজে মাইক ধরেননি; অন্য কেউ সেটি ধরেছিল। তবুও তাকে নাস্তিক ও ধর্মবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

ছাত্রদলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় খাদিজাতুল কুবরা বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে সেখানে তাকে জানানো হয়, মেয়েরা কিংবা তিনি ভিপি, জিএস ও এজিএস এই ‘সুপার থ্রি’ পদের জন্য উপযুক্ত নন। শুধু সম্পাদকীয় পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়। নারীদের নেতৃত্বের বিষয়ে এমন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই তিনি ছাত্রদলকে বেছে নিয়েছেন বলে জানান।

 

অনলাইনে অপপ্রচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের আগে আমাকে থামানোর মতো কোনো ইস্যু না পেয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে ভিকটিম কার্ড খেলা হয়েছে। অথচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কখনো চাঁদাবাজি করেনি, তারা বরাবরই ওপেন রাজনীতি করেছে।

 

পরাজয়ের পরও সংগঠনের প্রতি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে খাদিজা বলেন, আমি পদের লোভে রাজনীতিতে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। যত অপপ্রচারই হোক, আমি ছাত্রদলের সঙ্গেই থাকবো এবং দলকে সংগঠিত করতে কাজ করে যাবো।

 

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এ ঘটনার পর ভিসি ভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শিবির সমর্থিত প্রার্থী শান্তা আক্তারের ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দেওয়ার সময় মাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল সমর্থিত জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।


সম্পর্কিত

ছাত্রদলজকসু নির্বাচনরাজনীতি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।