রাজধানীর মিরপুরে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (ইইউবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃত কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং তাদের সঙ্গে থাকা কিছু বহিরাগত ব্যক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে কয়েকজন ব্যক্তিকে শিক্ষার্থীদের মারধর করতে দেখা যায়। ওই ফুটেজে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ও দারুস সালাম থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন জয় ওরফে ইমরান মিয়া ছাড়াও মেহেদী হাসান, আরিয়ান ইসলাম রোমান, শামিম আহমেদ, এনায়েত হোসাইন এবং মো. আজমির হুসাইনের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।
আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিষ্কৃত হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছিলেন। তাঁরা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতেন। শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে তাঁদের ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি ধারাবাহিকভাবে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজেও রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে হামলার সময় ছাত্রদলের নেতা ইমরান হোসেন জয়ের সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব ইসলাম নোমানকে একসঙ্গে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে শিবির ট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)



.jpg)
.jpg)