রাজনীতি


ফিরে দেখা নির্বাচন ২০০১: এত কৌশলও কাজে আসেনি, শেষ পর্যন্ত হার মানে আওয়ামী লীগ


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

ফিরে দেখা নির্বাচন ২০০১:  এত কৌশলও কাজে আসেনি, শেষ পর্যন্ত হার মানে আওয়ামী লীগ

ছবি: সংগৃহীত


অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই। তবু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নানা কৌশল অবলম্বন করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেসব কৌশলও কাজে আসেনি।

 

২০০১ সালের ১৩ জুলাই ছিল বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য দিন। সেদিন রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ যখন রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে সংসদের সমাপ্তি ঘোষণা করেন, তখনই তৈরি হয় ইতিহাস। বাংলাদেশের বয়স তখন ৩০ বছর। এই ৩০ বছরে এই প্রথম কোনো সংসদ তার পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করল। সপ্তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ১৩ জুলাই, শেষ হলো ঠিক পাঁচ বছর পর ২০০১ সালের ১৩ জুলাই। শুরুতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সংসদ বর্জন করেছিল, শেষ দিনেও তারা অনুপস্থিত ছিল।

 

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ার নজিরই ছিল বেশি। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ টিকেছিল আড়াই বছর। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদের আয়ু ছিল প্রায় তিন বছর। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ দেড় বছরের মাথায় ভেঙে যায়। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ টিকেছিল দুই বছর সাত মাস। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ ছিল চার বছর আট মাস। আর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গঠিত ষষ্ঠ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১২ দিনের মাথায়।

 

পাঁচ বছর পূর্তিকে ঘিরে আওয়ামী লীগের উৎসব করার পরিকল্পনা থাকলেও ১০ জুলাই স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মৃত্যুর কারণে তা বাতিল করা হয়। শেষ দিনের অধিবেশনে ‘সুদীর্ঘ পাঁচ বছরের সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাবও পাস হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটে সংসদের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। ঠিক সেই সময়ই বিএনপি ‘আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান’ উদ্‌যাপন করে দেশজুড়ে বিজয় মিছিল বের করে।

 

পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হলেও সময়টা মোটেই শান্ত ছিল না। শেষ দেড় বছর বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো সংসদ বর্জন করায় সংসদ কার্যত প্রাণহীন হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই ঘটে একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা।


১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরে উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলায় নিহত হন ১০ জন।


২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকার পল্টনে সিপিবির সমাবেশে নিহত হন ৪ জন।


১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিহত হন ৯ জন।


৩ জুন গোপালগঞ্জে গির্জায় বোমা হামলায় নিহত হন ১০ জন।


১৬ জুন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিসে বিস্ফোরণে নিহত হন ২১ জন।

 

এই সময়েই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ২০০১ সালের ২৭ জুন এই ঘোষণা আসে প্যারিস থেকে। দেশে এর প্রবল প্রতিক্রিয়া হয়, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে টিআইয়ের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবও গৃহীত হয়।

 

২০০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলের ডাকা হরতালের পাল্টা হিসেবে আওয়ামী লীগ ‘শান্তি মিছিল’ করে। মালিবাগে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান থেকে গোলাগুলিতে নিহত হন চারজন, যাঁদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। পরদিন পত্রিকার ছবিতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের এমপি ডা. এইচ বি এম ইকবালের মিছিল থেকেই গুলি ছোড়া হয়েছিল। ব্যাপক সমালোচনা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

এ সময় ফেনীতে আরেক আলোচিত নাম ছিলেন জয়নাল হাজারী। তাঁর নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে ইউএনবির সাংবাদিক টিপু সুলতান মারাত্মকভাবে আহত হন। এ ঘটনায় সংসদে প্রথম আলোর সম্পাদককে নিয়ে কুৎসিত বক্তব্য দিলেও দলীয় নেতৃত্ব নীরবই ছিল।

 

আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় পার্টির সমর্থনে ক্ষমতায় এলেও পরে বিরোধী আন্দোলনের চাপে পড়ে এরশাদকে আবার জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক হিসাব পাল্টে যায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় এরশাদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগ ওঠে। জেলখানার ভেতরেই জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠক হয়—যা নিয়ে প্রথম আলো তীব্র সম্পাদকীয় লিখেছিল।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন বিচারপতি লতিফুর রহমান। দায়িত্ব নিয়েই প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়। ১৯ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়, ভোটের দিন নির্ধারিত হয় ১ অক্টোবর।

 

নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দল পায় নিরঙ্কুশ বিজয়। ২ অক্টোবর প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল—‘বিএনপিসহ চার দলের বিপুল বিজয়’। আওয়ামী লীগের ২৮ জন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীসহ বহু প্রভাবশালী নেতা পরাজিত হন।

 

ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনা কারচুপির অভিযোগ তুললেও শেষ পর্যন্ত ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন খালেদা জিয়া। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হয় আরেকটি নতুন অধ্যায়।


সম্পর্কিত

আওয়ামী লীগনির্বাচন

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, নির্বাচনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা

নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার কিছু আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে শুরু হয়।