রাজনীতি


কুষ্টিয়ায় নির্বাচন প্রস্তুতি: চার আসনের আয়তন, ইউনিয়ন ও ভোটার সংখ্যা প্রকাশ


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বাদশা আলমগীর

প্রকাশিত:০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

কুষ্টিয়ায় নির্বাচন প্রস্তুতি: চার আসনের আয়তন, ইউনিয়ন ও ভোটার সংখ্যা প্রকাশ

ছবি: দূরবিন নিউজ


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ভোটার ও প্রশাসনিক কাঠামোর হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচন ঘিরে কোন আসনে কত ভোটার, কতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা রয়েছে এসব পরিসংখ্যান এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রার্থীদের প্রচারণা কৌশল ঠিক করতেও এই তথ্যগুলো বড় ভূমিকা রাখছে।

 

কুষ্টিয়া–১ সংসদীয় আসনটি আয়তনের দিক থেকে বড় এবং পুরোপুরি গ্রামীণ চরিত্রের। এই আসনের মোট আয়তন ৪৬১ বর্গ কিলোমিটার। এখানে রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন, তবে কোনো পৌরসভা নেই। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৪৯২ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন। বিস্তৃত গ্রামীণ এই আসনে ইউনিয়নভিত্তিক গণসংযোগ, স্থানীয় সমস্যা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

 

কুষ্টিয়া–২ আসনটি আয়তন ও ভোটার সংখ্যার দিক থেকে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত। এই আসনের আয়তন ৪৪৯ বর্গ কিলোমিটার। এখানে রয়েছে ১৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা, ফলে গ্রাম ও শহরের ভোটারদের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৮ হাজার ১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ১২৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। নগর ও গ্রামীণ ভোটারের সমন্বয়ে এই আসনে বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র থাকে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

কুষ্টিয়া–৩ সংসদীয় আসনের আয়তন তুলনামূলক কম হলেও ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এই আসনের আয়তন ৩১৬ বর্গ কিলোমিটার। এখানে রয়েছে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৪২ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ২৬৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৬৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এ আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি হওয়ায় নারী ভোটারদের চাওয়া–পাওয়াকে কেন্দ্র করেই নির্বাচনের ফল অনেকটাই নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

কুষ্টিয়া–৪ আসনের আয়তন ৪০১ বর্গ কিলোমিটার। এখানে রয়েছে ২০টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৪ হাজার ৪১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৯০৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন। গ্রাম ও পৌর এলাকার ভোটারদের একসঙ্গে সামলাতে হওয়ায় এই আসনে প্রচারণা চালানো প্রার্থীদের জন্য কৌশলগতভাবে বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে।

 

কুষ্টিয়া জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ ভোটার আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রার্থীদের প্রচারণা জোরালো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটার সচেতনতা বাড়ানো ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।


সম্পর্কিত

কুষ্টিয়াসংসদ নির্বাচন

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।