রাজনীতি
শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরবে জামায়াত
.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান ইশতেহারটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান করা বাংলাদেশকে ২০তম অর্থনীতিতে উন্নীত করা হবে। তবে এটি কত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নারীদের বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজের পরিবেশ তৈরি করা হবে। মায়েদের সম্মতি সাপেক্ষে মাতৃত্বকালীন কর্মঘণ্টা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টা করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে বিভিন্ন জনসভায় ঘোষিত কর্মঘণ্টা ও মজুরি সংক্রান্ত প্রস্তাব ইশতেহারে স্থান পায়নি।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আধুনিক বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন করে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং আমদানিনির্ভরতা ৩০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে ৭ শতাংশে উন্নীত করা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সরকারি বিনিয়োগসহ মোট ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা সহজ করতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা এবং করপোরেট করহার কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হঠাৎ কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য ভাতা কর্মসূচির পরিসর বাড়ানো এবং ইসলামী ধারার ব্যাংক ও বিমা খাতের বিকাশে সহায়তার কথাও রয়েছে।
বেকারত্ব দূর করতে দেশের ভেতরে ও বাইরে সাত কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানে যাওয়ার খরচ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ইশতেহারের অষ্টম ভাগে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠা করা হবে। শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার অঙ্গীকারও রয়েছে।
ইশতেহারে জামায়াতে ইসলামী মোট ২৬টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ, যুব ক্ষমতায়ন, নারীদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সমাজ, ব্যাপক কর্মসংস্থান, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, কৃষি ও শিল্পে বিপ্লব, ভেজালমুক্ত খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই দলের লক্ষ্য।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
.jpg)
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
.jpg)
নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
.jpg)

.jpg)


.webp)

.jpg)
.jpg)