রাজনীতি


বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুটি ‘ভূতের’ আধিপত্য—মামুনুল হক


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুটি ‘ভূতের’ আধিপত্য—মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর বড় দুটি ‘ভূত’ সওয়ার হয়েছে। একটি হলো সন্ত্রাস ও গুন্ডামিতন্ত্র, আরেকটি দুর্নীতি ও লুটপাটতন্ত্র। নির্বাচনের আগে সন্ত্রাস ও গুন্ডামির মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট ছিনতাই করে ক্ষমতায় যাওয়া হয়, আর ক্ষমতায় গিয়ে দেদার দুর্নীতি ও লুটপাট চালানো হয়—এটাই বাংলাদেশের রাজনীতির বাস্তব চিত্র।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটাখোলার গোলচত্বর–সংলগ্ন বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী রাকীবুল ইসলামের পক্ষে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

 

জনসভায় মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দর্শন শোনানো হয়েছে। এ দর্শনে জনগণের মতামতের কোনো প্রয়োজন নেই—রাষ্ট্র অবকাঠামো নির্মাণ করবে, আর শাসকেরা নিজেদের মতো করে চুরি ও লুটপাট চালাবে। তিনি দাবি করেন, এভাবেই গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা দাঁড় করিয়ে গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষকে ব্যালটের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

 

দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশের মানুষ যদি প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার হিসাব মেলাতে যায়, তাহলে দেখা যাবে—শাসকের পরিচয় বদলেছে, কিন্তু শোষণের ধরন বদলায়নি। আগে শাসকেরা দেশের সম্পদ লুট করে নিজেদের দেশে নিয়ে যেত, আর স্বাধীনতার পর আমাদের শাসকেরা চুরি করে বিদেশে টাকা পাচার করছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ৫৪ বছরেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি।

 

নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নরসিংদী–২ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোস্তাফিজুর রহমান কাওসার। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শিবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুল বাসেদ কাসেমী।

 

এর আগে একই দিন রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১১–দলীয় জোটের আরেকটি নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মামুনুল হক। সেখানে তিনি বলেন, বৈষম্য, স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র–জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে দেশ একটি ঐতিহাসিক পর্যায় অতিক্রম করেছে। দেড় হাজার মানুষের শাহাদাত এবং কয়েক হাজার মানুষের আত্মত্যাগের পরও নতুন করে ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ভৈরব পৌর শহরের এমপি পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী ভৈরব শাখার আমির কবির আহমেদ।

 

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা ইস্যুতে বিএনপির নীরবতার সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, জুলাই–পরবর্তী বাংলাদেশে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সুবিধাভোগীদের পক্ষ থেকে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

 

১১–দলীয় জোট গঠনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের এই সংকটময় সময়ে ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবেই রাজনীতি করতে হবে।


জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।