রাজনীতি
ভোটের আমেজে উপেক্ষিত মান্তা জনগোষ্ঠী, প্রতিশ্রুতিতে আর আস্থা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই বইছে ভোটের হাওয়া। চায়ের আড্ডা, বাজার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে প্রার্থী ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এই আলোচনার বাইরে নয় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বসবাসকারী জলযাযাবর মান্তা জনগোষ্ঠী। তবে তাদের অভিযোগ একটাই—ভোটের সময় ছাড়া কেউ তাদের খোঁজ নেয় না।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর, শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়নসহ তাজুমুদ্দিন, চরফ্যাশন, মনপুরা দ্বীপসংলগ্ন এলাকা এবং কলাপাড়ার খাল-নদীর পাড়ে নৌকাকেই ঘর বানিয়ে বসবাস করেন মান্তারা। জন্ম, বিয়ে, মৃত্যু—জীবনের প্রতিটি অধ্যায় কাটে ছোট নৌকায়। মাছ ধরা তাদের প্রধান এবং একমাত্র জীবিকা। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় নাগরিক সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে তারা কার্যত বঞ্চিত।
নির্বাচন এলেই সাধারণত নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষের কদর বাড়ে। মান্তা সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থী ভোট চাইতে গেছেন নৌকাভাসি এসব মানুষের কাছেও। তবে মান্তাদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। তাদের ভাষ্য, সরকার পরিবর্তন হলেও বদলায় না তাদের জীবন। নির্বাচনের আগে আশ্বাস মিললেও পরে আর কেউ ফিরে তাকায় না—এ অভিযোগ পুরোনো।
মেঘনার কোলঘেঁষা এসব জনপদে বসবাসকারী মান্তা পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখন আর কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখেন না। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও জীবিকায় বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রার্থীকেই তারা ভোট দিতে চান। পাশাপাশি তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছেন।
মান্তা সম্প্রদায়ের সদস্য বিশু সরদার বলেন, আমাদের কোনো জমি নেই, ঘর নেই। নৌকাই সব। ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ আসে না। বিপদে যে পাশে থাকবে, তাকেই আমরা চাই।
মান্তা নারী সদস্য মাইরম বীবী বলেন, ভোট দেওয়ার সময় আমাদের কদর থাকে, পরে কেউ খোঁজ নেয় না। অসুখ হলে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কেউ নেই।
আরেক জেলে কালাম সরদার জানান, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতে চাই, কিন্তু নৌকায় থেকে স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয় না। ভোট দিতে পারি, কিন্তু নাগরিক সুবিধা পাই না।
মান্তা বৃদ্ধা রহিমা বেগমের আক্ষেপ, জীবনভর নদীতে কাটালাম। শেষ বয়সে একটু নিরাপত্তা আর চিকিৎসা চাই। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনে না।
স্বাভাবিক জীবনধারার বাইরে থাকা এই জনগোষ্ঠীর কাছে নৌকাই একমাত্র সহায়-সম্বল। বসতভিটা বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ রাষ্ট্রীয় মূলধারার সেবাগুলো তাদের কাছে এখনো অধরা। মান্তাদের অভিযোগ, ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও তার সুফল তারা পান না।
ভোটের আমেজে ডুবে থাকা দেশের রাজনীতিতে মান্তা জনগোষ্ঠীর এই প্রত্যাশা নতুন নয়। নতুন নয় তাদের বঞ্চনার গল্পও। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এবারও কি কেবল প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি হবে, নাকি সত্যিই বদলাবে নৌকাভাসি মান্তাদের জীবন?
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
‘আওয়ামী লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে’, ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যত দেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মারা গেছেন আওয়ামীলীগের সাবেক মন্ত্রী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যা বললেন মোনামি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করলেও আপাতত রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি।

সীমান্ত হত্যা ও কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর উদ্বেগ প্রকাশ
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্ত হত্যার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।









