রাজনীতি
বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করবে: রয়টার্সকে তারেক রহমান

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। তবে নির্বাচনের পর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অবস্থান জানান।
ঐক্য সরকার গঠনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?
তিনি আরও বলেন, আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দল হয়, তাহলে আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্ব দেওয়া তারেক রহমান (৬০) প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন। তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। শেখ হাসিনা ছিলেন তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় দলটি নিষিদ্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার গঠন করে দেশ শাসন করেছিল। এবার জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশকে স্থিতিশীল করতে ঐক্য সরকার গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করলেন তারেক রহমান।
তারেক রহমানের সহযোগীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, বাকি আসনগুলোতে জোট শরিকেরা লড়ছেন।
নির্দিষ্ট করে আসনসংখ্যা উল্লেখ না করলেও তারেক রহমান বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।
বিভিন্ন জনমত জরিপেও বিএনপির এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেছে। তবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জেন–জির দল এনসিপির চ্যালেঞ্জের কথাও জরিপে উঠে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে, হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। একই সঙ্গে এতে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনে জয়ী হলে পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে ১৭ কোটির মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে—এমন অংশীদারদেরই আমাদের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে, বিনিয়োগ আনতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ বা পক্ষ সবচেয়ে উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব—কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।
শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে, স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।
উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দলটির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা তাঁর পতনের আগে বা পরবর্তী সময়ে দেশ ছেড়েছেন।
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
.jpg)
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
.jpg)
নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
.jpg)

.jpg)


.webp)

.jpg)
.jpg)