রাজনীতি


বিএনপির ঘাঁটি কুষ্টিয়ায় এবার জমছে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার

বিএনপির ঘাঁটি কুষ্টিয়ায় এবার জমছে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ছবি: সংগৃহীত


ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জেলা হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া রাজনৈতিকভাবেও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় জেলার চারটি সংসদীয় আসনকে বরাবরই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক মাঠে এবার ভিন্ন চিত্রের ইঙ্গিত মিলছে। জেলার চারটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনী উত্তাপ বাড়িয়ে তুলেছে।

 

স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কুষ্টিয়ার চারটি আসনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিত্ব থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী এখনো সংসদে পৌঁছাতে পারেননি। তবে এবারের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আলাদা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, মাঠপর্যায়ে জামায়াতের সক্রিয় প্রচারণা ও সাংগঠনিক তৎপরতায় বিএনপির জন্য লড়াই সহজ হবে না।

 

কুষ্টিয়া–১ (দৌলতপুর)

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তিনি গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও দলীয় সভায় সক্রিয় রয়েছেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দৌলতপুর থানা জামায়াতের আমীর মাওলানা বেলাল উদ্দিন। ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৬ জন। স্থানীয়দের মতে, ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো।

 

কুষ্টিয়া–২ (মিরপুর–ভেড়ামারা)

মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া–২ আসনটি এবার জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৮৮ জন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল গফুরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। দুই দলের শক্ত সাংগঠনিক উপস্থিতি ও সক্রিয় প্রচারণার কারণে এই আসনের ফলাফল নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

 

কুষ্টিয়া–৩ (সদর)

কুষ্টিয়া সদর–৩ আসনেও নির্বাচনী উত্তাপ কম নয়। ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৬ জন। বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। তাঁর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত প্রার্থীর সরব উপস্থিতি এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

কুষ্টিয়া–৪ (কুমারখালী–খোকসা)

কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া–৪ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭০৪ জন। বিএনপির প্রার্থী তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কুমারখালী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আফজাল হোসেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের উপস্থিতি ভোটের হিসাবকে সহজ রাখছে না।

 

কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনেই এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। বিএনপির ঐতিহ্যগত প্রভাবের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ভোটের ফলাফলে নতুন চিত্র তুলে ধরতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


সম্পর্কিত

বিএনপিজামায়াতরাজনীতি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।