রাজনীতি


বগুড়া–৪ আসনে ভোট কেনার অভিযোগ ঘিরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৪


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

বগুড়া–৪ আসনে ভোট কেনার অভিযোগ ঘিরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৪

ছবি: সংগৃহীত


বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

 

আহতদের মধ্যে থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ভাই রবিউল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লার কর্মী ও থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন এবং জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেন আহত হন।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে বেলাল হোসেন ও ফারুক হোসেনকে বিএনপির নেতা–কর্মীরা আটক করেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয় বলে বিএনপির দাবি। পরে তাঁদের থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

 

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা হাতে জামায়াতের সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে আটক দুই কর্মীকে উদ্ধার করে নিয়ে যান জামায়াতের সমর্থকেরা।

 

ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করেন, জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা মধ্যরাতে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁর বাবা ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন। তাঁর দাবি, হামলার সময় তাঁর বাবার চোখে গুরুতর আঘাত করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম এবং বগুড়া–৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত–শিবিরের কয়েক শ কর্মী অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে এসে বিএনপি নেতা–কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালান এবং আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে যান।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল। তিনি বলেন, টাকা বিতরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, ভোটের লিফলেট বিতরণের সময় জামায়াতের দুই কর্মীকে বিএনপির লোকজন আটক করে মারধর ও বেঁধে রাখে। পরে তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ধানের শীষের সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লার দুই কর্মীকে আটক করেছেন—এমন খবর পেয়ে জামায়াতের কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যান। হামলা, ভাঙচুর বা সংঘর্ষের বিষয়ে তদন্ত চলছে।


সম্পর্কিত

বগুড়া–৪বিএনপিজামায়াতসংঘর্ষ

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।