রাজনীতি
উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ: প্রধান উপদেষ্টার মোট সম্পদ ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা
.jpg)
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবরণী অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর মোট পরিসম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। এক বছর আগে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা।
প্রধান উপদেষ্টার দাখিল করা বিবরণীতে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কারণে তাঁর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে।
বিবরণী অনুযায়ী, অধ্যাপক ইউনূসের আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪০১ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৩ টাকা। তাঁর নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ ২১ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা এবং দেশের বাইরে তাঁর সম্পদ রয়েছে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা।
আয়কর আইন অনুযায়ী, কোনো করদাতার মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনী সম্পত্তির সমষ্টিকেই পরিসম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লটসহ স্থাবর সম্পদকে নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, তাঁর মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা। তাঁর আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮৬০ টাকা এবং নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদ ১ কোটি ২৩ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর কোনো বিদেশি সম্পদ নেই। তবে তাঁর নামে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার দায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে উপদেষ্টাদের আয় ও সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিতে হবে এবং তা উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হবে।
দীর্ঘদিন বিবরণী প্রকাশ না হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা ২১ জন। আজ তাঁদের সবার আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হলো।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
.jpg)
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
.jpg)
নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
.jpg)

.jpg)


.webp)

.jpg)
.jpg)