রাজনীতি


আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমবে না: ইসি


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমবে না: ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিদেশি সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের সরাসরি ও স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি কমিশন।

 

নির্বাচনের আগের দিন বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় উঠে আসে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

 

 

ব্রিফিংয়ে বিবিসির এক সাংবাদিক জানতে চান, একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল কার্যত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব পড়বে কি না। বাংলাদেশে এমন ভোটার থাকতে পারেন, যারা ওই দলকে সমর্থন করতে চান কিন্তু ব্যালট পেপারে তাঁদের পছন্দের দল থাকবে না—এ অবস্থায় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন কি না।

জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভুলে গেলে চলবে না। দেড় দশক ধরে দেশ গণতান্ত্রিক ঘাটতির মধ্যে ছিল। যারা এখন ত্রিশের কোঠায়, তারা কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। সে কারণেই কিছু সত্তা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।”

সম্পূরক প্রশ্নে নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের বিষয়। জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাগুলো ভুলে গেলে চলবে না।”\

 

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে কি না—এ প্রশ্নে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সমান উৎসাহ রয়েছে। কিছুসংখ্যক মানুষ না-ও আসতে পারেন—এটি সব সময়ই ঘটে। তবে সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ মানুষ ভোট দেবেন। আর যে দলের কথা বলছেন, তারা একা ছিল না—তাদের শরিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিশনের ভূমিকা দুর্বল কি না-এ প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনার পাল্টা বলেন, কেউ কাজ করছে কি না, তা সব সময় দৃশ্যমান হয় না। আমরা কার্যকরভাবে কাজ করছি।

 

তিনি জানান, বর্তমানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় সরকারি প্রভাব নেই। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান পরিবেশ সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় অন্যতম সেরা।

 

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, এবার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে-৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমবারের মতো ইউএভি, ড্রোন, বডি ক্যামেরা ও সিসিটিভি ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে, তবে সে বিষয়ে প্রস্তুতি রয়েছে।

 

চরম পরিস্থিতিতে কোনো কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেদিনই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

পোস্টাল ভোটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার জানান, রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল হলেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ম্যানুয়াল। বিকেল চারটার মধ্যে পোস্টে পৌঁছানো ভোটই গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

ভোটগ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। এরপরই গণনা শুরু হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে দুই থেকে তিন হাজার ভোট এবং দুই ধরনের ব্যালট থাকায় গণনায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। রাত থেকে ভোরের মধ্যে প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে এবং শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে।

 

ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনকে প্রশ্ন করা হয়—আগের দুই সিইসি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে কারাগারে আছেন, এ বাস্তবতা তাঁকে ভাবায় কি না। জবাবে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা আইনকানুনের মধ্যেই কাজ করছি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই দায়িত্ব পালন করছি। জাতির কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেটিকেই লক্ষ্য রেখে কাজ করছি। আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।


জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘আওয়ামী লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে’, ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যত দেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মারা গেছেন আওয়ামীলীগের সাবেক মন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যা বললেন মোনামি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করলেও আপাতত রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি।

সীমান্ত হত্যা ও কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর উদ্বেগ প্রকাশ

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্ত হত্যার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।