রাজনীতি


মেহেরপুরে ভোটের দিন সংঘর্ষ: বিএনপি–জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতে আহত ৯


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

মেহেরপুরে ভোটের দিন সংঘর্ষ: বিএনপি–জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতে আহত ৯

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশের ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন । ছবি: সংগৃহীত


ভোটের দিন মেহেরপুরের সদর ও গাংনী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত দুই উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

জামায়াতের দাবি, এ ঘটনায় তাদের ছয়জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন তবারক হোসেন (৫০), মিনাজুল ইসলাম (৩৫), সম্রাট আলী (৩২), রিপন মিয়া (৩৫), আনারুল ইসলাম (৫৪) ও আলহাজ বিশ্বাস (৫২)। তাঁদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জামায়াত–সমর্থিত কয়েকজন ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

 

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জামায়াত–সমর্থিত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা অভিযোগ করেন, “সকাল থেকেই আমাদের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। ভাটপাড়ায় পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।”

 

তবে একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, “এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। প্রতিবেশীদের মধ্যে রেষারেষির জেরে এমনটি হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের পক্ষে।”

 

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, “সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

এদিকে সদর উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন—শিবপুর গ্রামের সুমন, মামুন ও মাহাবুবুল। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সকালে ভোট দিয়ে ফেরার পথে সুমন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শিবপুর গ্রামের সাবদার আলীর ছেলে শাহাবুদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটক ব্যক্তি বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত।

 

ঘটনার পর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন রয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে।”

 

জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


সম্পর্কিত

মেহেরপুরবিএনপিজামায়াতসংঘর্ষ

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।