রাজনীতি
হেরে গিয়ে ও জাতীয় সংসদে সুযোগ পাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী?

নসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী । ছবি: দূরবিন নিউজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচিত প্রার্থীদের একজন ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও তাঁর সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, তিনি উচ্চকক্ষের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেতে পারেন।
এনসিপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে (পিআর পদ্ধতি) উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনীত করা হবে। এবারের নির্বাচনে ৩০টি আসনে এনসিপি প্রার্থীরা মোট ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়েছে, যা মোট ভোটের ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। সে হিসেবে দলটি অন্তত তিনটি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হলেও উচ্চকক্ষে এনসিপির সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে তিনি যদি ভবিষ্যতে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে চান, সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে না–ও থাকতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা–৮ আসনে বেসরকারি ফল অনুযায়ী মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৩৬ ভোট, আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। ব্যবধান পাঁচ হাজারের কিছু বেশি।
নাসীরুদ্দীনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষে এনসিপির সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন পঞ্চগড়–১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম, ঢাকা–১৯ আসনের প্রার্থী দিলাশানা পারুল এবং নরসিংদী–২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার তুষার।
তবে উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপি যদি আসনসংখ্যার পরিবর্তে ভোটের হার বিবেচনায় সদস্য মনোনয়নের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং সেটি কার্যকর হয়, তাহলে এনসিপির প্রাপ্ত আসনসংখ্যা কমে যেতে পারে বলেও দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া
গণভোটে প্রশ্ন ছিল আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হবে।
জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ায় প্রথমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।
উচ্চকক্ষের সদস্যরা আইন প্রণয়ন সরাসরি করতে পারবেন না, তবে নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিল পর্যালোচনা ও সংশোধনের প্রস্তাব দিতে পারবেন। সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।
ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনে অধিকাংশ দল একমত হলেও উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, এবারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদেরও উচ্চকক্ষে মনোনয়ন দিতে পারবে। তবে ভবিষ্যৎ সংসদ নির্বাচনে এ সুযোগ থাকবে না।
নির্বাচনে পরাজিত হলেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো উন্মুক্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলীয় মনোনয়ন ও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ার ওপর।
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, নির্বাচনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা
নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার কিছু আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে শুরু হয়।


.jpg)






