রাজনীতি


পাবনা জেলা ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ এপ্রিল ২০২২, ০৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার

পাবনা জেলা ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত


 অনৈতিক লেনদেন,ব্যক্তিগতদ্বন্দ্ব গ্রুপিং,লবিংয়ে মাধ্যমে কমিটি দেওয়াসহ নানা কারণে বিতর্কিত পাবনা জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ জানিয়ে সোমবার (১১ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। একইসঙ্গে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পাবনা জেলা শাখা ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পাবনা জেলা শাখার আগামী নতুন কমিটিতে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুরাদ হাসান টিপু ও উপদপ্তর সম্পাদক ইমরান শেখ পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নিবেন। কমিটি বিলুপ্ত হওয়া পাবনা জেলার অধীনস্থ উপজেলা, থানা বা কোনো ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করতে পারবে না বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ্য করা হয়ছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন উপজেলা কমিটি ঘোষণার প্রেক্ষিতে কমিটির বিলুপ্তি অস্বীকার করে তিনি বলেন,এর সঙ্গে কমিটির বিলুপ্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এই কমিটির ভেঙে দিয়েছেন।

 

২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের পর ২৮ জানুয়ারি নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় পাবনা জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিককে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় অ্যাডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তাজুল ইসলামকে। পরে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ায় পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলী সাদিক পদত্যাগ করেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে সভাপতির পদ শূন্য থাকার পর ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফিরোজ আলীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।

এই কমিটি গত চার বছরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। গত বছরের (৫ অক্টোবর) ফরিদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সোহেল রানাকে সভাপতি ও জাহিদ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় জেলা ছাত্রলীগ। জাহিদ হাসানের বাবা আব্দুল হামিদ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বনওয়ারীনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত উপজেলা যুবদলের আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। বিএনপি নেতার ছেলেকে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

সর্বশেষ সম্মেলন ছাড়াই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনৈতিক লেনদেন হয়েছে দাবি করে কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন নেতাকর্মীরা।


জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।