ধর্ম
জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।
ফিতরা কী ও কেন দেওয়া হয়
সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা হলো ঈদুল ফিতরের আগে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ওয়াজিব একটি দান। ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ফিতরাকে রোজাদারের পবিত্রতা অর্জন এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে, ফিতরা রোজার মধ্যে ঘটে যাওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে এবং অসহায় মানুষদের ঈদের আনন্দে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এজন্য ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাকাতের গুরুত্ব
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো যাকাত। পবিত্র আল-কোরআন-এ আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো...” (সূরা বাকারা: ৪৩)
যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদে বরকত আসে এবং সমাজের দরিদ্র মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়। এটি সম্পদের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কারা পাবে যাকাত ও ফিতরা
পবিত্র আল-কোরআন-এ যাকাত প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট আটটি শ্রেণির কথা বলা হয়েছে (সূরা তওবা: ৬০)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
-
দরিদ্র (ফকির)
-
অভাবগ্রস্ত (মিসকিন)
-
যাকাত আদায়ে নিয়োজিত ব্যক্তি
-
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
-
মুসাফির (পথিক)
-
আল্লাহর পথে সংগ্রামরত ব্যক্তি
ফিতরাও মূলত এসব শ্রেণির দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যেই বিতরণ করা উচিত, যাতে তারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।
সামাজিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য
ফিতরা ও যাকাত শুধু দান নয়—এটি একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমে, সমাজে সহানুভূতি সৃষ্টি হয় এবং অসহায় মানুষের জীবনে স্বস্তি আসে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিকভাবে যাকাত ও ফিতরা আদায় ও বণ্টন করা গেলে সমাজের দারিদ্র্য অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ঈদ শুধু আনন্দের নয়—এটি ভাগাভাগিরও। আর সেই ভাগাভাগির সবচেয়ে বড় মাধ্যমই হলো ফিতরা ও যাকাত।
জনপ্রিয়
ধর্ম থেকে আরও পড়ুন
হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, ১৫ বছরের নিচে যেতে পারবে না
২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সোমবার (২৭ জুলাই)। চলবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে হজে যেতে আগ্রহীদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী। মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশায় তারা দিনভর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?
ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।






