পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

ফিতরা কী ও কেন দেওয়া হয়

হযরত মুহাম্মদ (সা.)ফিতরাকে রোজাদারের পবিত্রতা অর্জন এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

হাদিসে বর্ণিত আছে, ফিতরা রোজার মধ্যে ঘটে যাওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে এবং অসহায় মানুষদের ঈদের আনন্দে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এজন্য ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

citytouch 728-X-90

যাকাতের গুরুত্ব

আল-কোরআন-এ আল্লাহ তাআলা বলেন,“তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো...” (সূরা বাকারা: ৪৩)

যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদে বরকত আসে এবং সমাজের দরিদ্র মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়। এটি সম্পদের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কারা পাবে যাকাত ও ফিতরা

আল-কোরআন-এ যাকাত প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট আটটি শ্রেণির কথা বলা হয়েছে (সূরা তওবা: ৬০)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

দরিদ্র (ফকির)

অভাবগ্রস্ত (মিসকিন)

যাকাত আদায়ে নিয়োজিত ব্যক্তি

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি

মুসাফির (পথিক)

আল্লাহর পথে সংগ্রামরত ব্যক্তি

ফিতরাও মূলত এসব শ্রেণির দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যেই বিতরণ করা উচিত, যাতে তারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।

সামাজিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ফিতরা ও যাকাত শুধু দান নয়—এটি একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমে, সমাজে সহানুভূতি সৃষ্টি হয় এবং অসহায় মানুষের জীবনে স্বস্তি আসে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিকভাবে যাকাত ও ফিতরা আদায় ও বণ্টন করা গেলে সমাজের দারিদ্র্য অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ঈদ শুধু আনন্দের নয়—এটি ভাগাভাগিরও। আর সেই ভাগাভাগির সবচেয়ে বড় মাধ্যমই হলো ফিতরা ও যাকাত।