ধর্ম
কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য

কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একবার সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করেন, কিয়ামতের দিন তারা কি তাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবেন? জবাবে হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, যেমন মানুষ পরিষ্কার আকাশে সূর্য বা পূর্ণিমার চাঁদ দেখায় কোনো সন্দেহ করে না, তেমনি সেদিন তারা তাদের রবকে দেখার ক্ষেত্রেও কোনো সন্দেহ করবে না।
এরপর তিনি কিয়ামতের দিনের জিজ্ঞাসাবাদের দৃশ্য বর্ণনা করেন। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ডেকে বলবেন—“আমি কি তোমাকে সম্মানিত করিনি? নেতৃত্ব দিইনি? বিবাহের ব্যবস্থা করিনি? তোমার জন্য জীবনের নানা সুযোগ-সুবিধা সহজ করে দিইনি?” বান্দা এসবের স্বীকৃতি দেবে।
কিন্তু যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, “তুমি কি ধারণা করেছিলে যে, আমার সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হবে?” তখন সে অস্বীকার করবে। তখন আল্লাহ বলবেন, “তুমি যেমন আমাকে ভুলে গিয়েছিলে, আজ আমিও তোমাকে ভুলে যাব।” এভাবে দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথেও অনুরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং একই পরিণতি বরণ করতে হবে।
তৃতীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে, সে নিজের ঈমান, নামাজ, রোজা ও দান-সদকার কথা তুলে ধরবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজির করবেন। তখন তার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ—রান, মাংস ও হাড়—তার আমলের সাক্ষ্য দেবে।
হাদিসে বলা হয়েছে, এভাবে যেন সে কোনো অজুহাত পেশ করতে না পারে। এই ব্যক্তি হবে মুনাফিক এবং তার ওপর আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন। উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ হাদিসটি সহিহ বুখারি (হাদিস নং: ৬৫৭৩) এবং সহিহ মুসলিম (হাদিস নং: ২৯৬৮)-এ বর্ণিত হয়েছে।
জনপ্রিয়
ধর্ম থেকে আরও পড়ুন
আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী। মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশায় তারা দিনভর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?
ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।






