ধর্ম


ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২১ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

ছবি: ফ্রিপিক


মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

ঈদের দিনে করণীয়

ঈদের দিনটি শুরু হয় পবিত্রতা ও ইবাদতের মাধ্যমে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী-

 

  • গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: ঈদের সকালে গোসল করা সুন্নাত। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।
  • তাকবির পাঠ: ঈদের দিন বেশি বেশি তাকবির পড়া সুন্নাত। এটি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
  • উত্তম পোশাক পরিধান: সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা উচিত। এটি আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ।
  • তাকওয়া অর্জন: বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
  • ঈদুল ফিতরের আগে খাওয়া: ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত।
  • ফিতরা আদায়: ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদান করা জরুরি, যাতে অসহায় মানুষেরাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে।
  • ঈদগাহে যাওয়া: সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফিরে আসা সুন্নাত।
  • আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
  • শুভেচ্ছা বিনিময়: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ বলে পরস্পর শুভেচ্ছা জানানো উত্তম আমল।
  •  

ঈদের দিনে যা করবেন না

ঈদের আনন্দ যেন ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি-

  • ঈদের দিনে রোজা রাখা: সম্পূর্ণ হারাম। মুহাম্মদ (সা.) এই দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।
  • অপ্রয়োজনীয় নফল নামাজ: ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ আদায় নেই।
  • ইবাদতে অবহেলা: ব্যস্ততার কারণে ঈদের নামাজ অবহেলা করা উচিত নয়।
  • বিদআত ও কুসংস্কার: ধর্মে নেই এমন কাজকে ইবাদত মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • অপচয় ও অনৈতিক কাজ: ঈদের আনন্দ যেন অপচয়, জুয়া বা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরিণত না হয়।
  •  

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার চর্চারও একটি বড় সুযোগ। তাই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা শরিয়তের নির্দেশনা মেনে উদযাপন করা হয়।


সম্পর্কিত

ঈদঈদুল ফিতর

জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

২০৩০ সালে মুসলিমরা পালন করবেন ৩৬টি রোজা, ২০৩৩ সালে সম্ভব তিনটি ঈদ

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণত মুসলিমরা ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখেন। তবে বিশেষ বছরগুলিতে চন্দ্র ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে রোজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩০ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, যেহেতু সেই বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।

৬ মার্চ ২০২৬: আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে ইতিকাফ শুরু, আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

পবিত্র রমজানের শেষ দশকের নীরব এক আত্মিক প্রশান্তির নাম ইতিকাফ। দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ এটি। বাংলাদেশ–সহ বিশ্বের মুসলিম সমাজে ধর্মপ্রাণ মানুষরা এই বিশেষ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।