আগামীকাল ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন ও মহান জীবনাদর্শ স্মরণে দিনটি ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করবেন মুসলিমরা। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি।
ইসলামি বর্ষপঞ্জির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখকে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করা হয়। প্রচলিত ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই দিনে পবিত্র মক্কা নগরীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন ঘটে। তাঁর আগমনকে মুসলিমরা মানবজাতির জন্য শান্তি, ন্যায়, মানবতা ও কল্যাণের এক মহান বার্তার সূচনা হিসেবে স্মরণ করেন।
দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, খানকাহ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, দোয়া, ওয়াজ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে মহানবী (সা.)-এর জীবন, তাঁর চরিত্র, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহনশীলতা, সত্যবাদিতা ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা তুলে ধরা হবে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রয়েছে বিশেষ কর্মসূচি। এর মধ্যে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ইসলামি বইমেলার আয়োজন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও নাত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে।
চট্টগ্রামেও ঈদে মিলাদুন্নবীকে ঘিরে রয়েছে ব্যাপক আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সিলেট, খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরেও ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ ইবাদতের আয়োজন করা হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশে সরকারি ছুটিও থাকবে। দিবসটি শান্তিপূর্ণভাবে পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মহানবী (সা.)-এর আগমন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; তাঁর জীবন ও শিক্ষা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ। তাই দিনটির মূল শিক্ষা হিসেবে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও শান্তির পথে চলার আহ্বান জানানো হবে।










