ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কুরবানির পশু বজ্রপাত বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় মারা গেলে সেই পশুর মাধ্যমে কুরবানি আদায় হবে না। কারণ কুরবানির মূল শর্ত হলো নির্ধারিত সময়ে জীবিত পশুকে শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা। দুর্ঘটনায় মৃত পশু কুরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়ে ও খোলাসাতুল ফাতাওয়া-তে উল্লেখ রয়েছে, কুরবানির পশু মারা গেলে তার মাধ্যমে কুরবানি আদায় হবে না। যদি কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তাহলে নতুন পশু কিনে কুরবানি করতে হবে।

citytouch 728-X-90

কার ওপর নতুন পশু কেনা জরুরি?

১. যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিবযদি ব্যক্তি সামর্থ্যবান হন এবং তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তাহলে পশু মারা যাওয়ার পর নতুন আরেকটি পশু কিনে কুরবানি করা বাধ্যতামূলক। কারণ কেবল পশু কেনার মাধ্যমে কুরবানি আদায় হয় না; বরং শরিয়তসম্মত জবাইয়ের মাধ্যমেই ইবাদত সম্পন্ন হয়।

২. যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়যদি কারো ওপর মূলত কুরবানি ওয়াজিব না থাকে, কিন্তু তিনি নফল কুরবানির নিয়তে পশু কিনে থাকেন এবং সেই পশু দুর্ঘটনায় মারা যায়, তাহলে তার ওপর নতুন পশু কেনা বাধ্যতামূলক নয়।

কুরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশনা

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ“অতএব আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।”— (সুরা আল-কাওসার: আয়াত ২)

কুরবানি না করার বিষয়ে হাদিসের সতর্কতা

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا“যার কুরবানি করার সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে কুরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।”— (ইবনে মাজাহ: ৩১২৩)

কাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব?

মুসলমান নারী-পুরুষ নির্বিশেষে, যার কাছে জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে নিত্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত—

সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণঅথবা

সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপাঅথবা

এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে,

তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়।

সবশেষে বলা যায়, কুরবানির পশু বজ্রপাতে বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় মারা গেলে সেই পশুর মাধ্যমে কুরবানি আদায় হবে না। সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর তখন নতুন পশু কিনে কুরবানি করা আবশ্যক হবে। ইসলাম শুধু ইবাদতের নির্দেশই দেয়নি, বরং সঠিক পদ্ধতিতে ইবাদত আদায়ের শিক্ষাও দিয়েছে। তাই শরিয়তের বিধান জেনে সহিহভাবে কুরবানি আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।